মাধ্যমিকে টুকলির ‘হাইটেক’ ছক! এআই ব্যবহার করে উত্তর খুঁজছে পরীক্ষার্থীরা, কপালে ভাঁজ পর্ষদের

প্রযুক্তির লড়াইয়ে এবার পর্ষদ বনাম পরীক্ষার্থী! মাধ্যমিক পরীক্ষায় টুকলি রুখতে পর্ষদ যখন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে, ঠিক তখনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে হাতিয়ার করে অভিনব কায়দায় নকল করার অভিযোগ উঠল একদল পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। শনিবার ভূগোল পরীক্ষার দিনও মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে ১২ জন পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে পরীক্ষা শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৩১ জনের পরীক্ষা বাতিল করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এ বছর টুকলির ধরণ একেবারেই বদলে গিয়েছে। আগে যেখানে চিরকুট বা বইয়ের পাতা ব্যবহার করা হতো, এখন সেখানে জায়গা করে নিয়েছে স্মার্টফোন এবং এআই। পরীক্ষার্থীরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে জুতো, এমনকি অন্তর্বাসের ভেতরেও মোবাইল লুকিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। এরপর সুযোগ বুঝে শৌচাগারে গিয়ে এআই-এর মাধ্যমে অজানা প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর জেনে নিচ্ছে তারা। সভাপতির কথায়, “দলগতভাবে এআই ব্যবহার করে নকল করার এই প্রবণতা পর্ষদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন এবং উদ্বেগের।”

শনিবার কলকাতা সহ উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, বাঁকুড়া ও বীরভূমের মতো একাধিক জেলা থেকে এই ১২ জন পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরা হয়। পর্ষদ সূত্রে খবর, কেউ কেউ গত বছরের প্রশ্নপত্র সাথে নিয়ে আসছে যাতে নজরদারি এড়ানো যায়, এবং আসল প্রশ্ন নিয়ে শৌচাগারে গিয়ে মোবাইলের সাহায্য নিচ্ছে।

তবে কেবল পড়ুয়াই নয়, এবার কাঠগড়ায় খোদ শিক্ষকও! দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুলের এক গণিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ইতিহাস পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীদের উত্তর বলে দিচ্ছিলেন। পর্ষদ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, কলকাতার মোমিন হাইস্কুলে পরীক্ষা শেষে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে পরীক্ষার্থীদের একাংশের বিরুদ্ধে।

সব মিলিয়ে, একদিকে প্রযুক্তির অপব্যবহার আর অন্যদিকে খোদ শিক্ষকের মদত— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ মাধ্যমিকের গরিমা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী পরীক্ষাগুলোতে নজরদারি আরও কয়েক গুণ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।