ভোটের আগেই কাঁপবে উত্তরবঙ্গ! পৃথক কামতাপুর না হলে ৪০ আসনে বিজেপিকে ডোবানোর হুঁশিয়ারি

গোর্খাল্যান্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের উত্তপ্ত উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠল পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবি। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উদাসীনতা’র প্রতিবাদে এবার সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল। দাবি আদায় না হলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি উত্তরবঙ্গ জুড়ে রেল রোকো (রেল অবরোধ) কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এই সংগঠন। শুধু তাই নয়, আসন্ন নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৪০টি আসনে বিজেপিকে হারানোর খোলাখুলি হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

শনিবার শিলিগুড়িতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করে। সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা পৃথক রাজ্যের দাবি জানিয়ে এলেও কেন্দ্র কেবল প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এবার আর কেবল আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

সংগঠনের সভাপতি রঞ্জিত সিংহ কড়া সুরে বলেন, “গত ১৫-২০ বছর ধরে আমরা বিজেপিকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল কোচবিহার, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো এবং বিহারের একাংশ নিয়ে পৃথক কামতাপুর রাজ্য গঠন এবং কামতাপুরি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের আবেগকে গুরুত্ব দেয়নি। জীবন সিংহের মাধ্যমে আলোচনা শুরু হলেও তা থমকে গেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি অবিলম্বে আমাদের দাবি পূরণ না হয়, তবে উত্তরবঙ্গের ৪০টি আসনে বিজেপিকে হারানোর জন্য আমরা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাব। প্রয়োজনে আমরা ৮০টি আসনে নির্দল বা নিজেদের প্রার্থী দিয়ে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাব।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও কামতাপুরি ভোট বিজেপির বড় শক্তি। সেই ভোটে ফাটল ধরলে বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে বাধ্য। তবে কামতাপুর কাউন্সিলের এই আন্দোলনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এই প্রসঙ্গে জানান, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামতাপুরি ও রাজবংশীদের জন্য যা করেছেন, তা নজিরবিহীন। ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে কামতাপুরি ভাষার স্বীকৃতি ও স্কুল প্রতিষ্ঠা—সবই রাজ্য সরকার করেছে। সাধারণ মানুষ উন্নয়ন দেখেই বিচার করবেন।”

এখন দেখার, ১৫ ফেব্রুয়ারির রেল অবরোধ উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলে এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই হুঁশিয়ারির পর নতুন কোনো কৌশল গ্রহণ করে কি না।