অপারেশন আমেরিকা: সাতসকালে গ্রিনফিল্ড সিটিতে লালবাজারের হানা, মাইক্রোসফটের ‘ছদ্মবেশী’দের পর্দা ফাঁস!

ভোর তখন প্রায় চারটে। যখন শহরতলি গভীর ঘুমে মচ্ছন্ন, ঠিক তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার গ্রিনফিল্ড সিটির এক অভিজাত ফ্ল্যাটে হানা দিল লালবাজারের সাইবার থানার গোয়েন্দারা। শুরু হলো ‘অপারেশন আমেরিকা’। আন্তর্জাতিক স্তরের এক ভয়াবহ সাইবার জালিয়াতি চক্রের পর্দা ফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। নামি বহুজাতিক সংস্থা ‘মাইক্রোসফট’-এর টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্টাফ সেজে সুদূর আমেরিকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটছিল একদল যুবক। এই ঘটনায় হাতেনাতে ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে অন্যতম হলো জুনায়েদ, সাকির এবং খুরশিদ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মহেশতলার ওই বিলাসবহুল আবাসনকে তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত। সেখানে বসেই চলত একটি বেআইনি আন্তর্জাতিক কল সেন্টার। এই চক্রের কাজের ধরন বা মোডাস অপারেন্ডি দেখে তদন্তকারীরাও হতবাক। এরা মূলত গুগল এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মাইক্রোসফটের ভুয়ো হেল্পলাইন নম্বর ছড়িয়ে রাখত। কোনো মার্কিন নাগরিক নিজের কম্পিউটারে কারিগরি সমস্যায় পড়ে যখন সেই নম্বরে ফোন করতেন, তখনই শুরু হতো জালিয়াতির জাল বিছানো।

নিজেদের ‘টেক-উইজার্ড’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তরা গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করত। এরপর সাহায্যের অজুহাতে তাদের বলা হতো ‘TeamViewer’ বা ‘AnyDesk’-এর মতো রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ ডাউনলোড করতে। একবার কম্পিউটারের দখল হাতে পেলেই তারা গ্রাহকদের ব্যাঙ্কিং তথ্য হাতিয়ে নিত। ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা বা ওয়েলস ফার্গোর মতো নামী ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে নিমেষে টাকা গায়েব করে দিত এই চক্র। এমনকি ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে তারা ব্যবহার করত উন্নত মানের VPN এবং বিদেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা অ্যাপল গিফট কার্ডের মাধ্যমে টাকা পাচার করত।

অভিযুক্তদের ডেরা থেকে ৫টি আধুনিক ল্যাপটপ, ১২টি দামি স্মার্টফোন এবং ২টি হাই-স্পিড রাউটার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১ নভেম্বরের একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়েই এই মহেশতলা কানেকশনের হদিস মেলে। বর্তমানে ধৃত ৮ জনই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। কলকাতা পুলিশের কড়া বার্তা, সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকা যারা আত্মসাৎ করবে, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না।