সুপ্রিম ধাক্কার পরও কি DA আটকাবে রাজ্য? রিভিউ না কিউরেটিভ পিটিশন— নবান্নের হাতে আর কোন কোন পথ?

প্রায় এক দশকের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (DA) বা মহার্ঘ ভাতা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেলেন কর্মীরা। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ১০০ শতাংশই মেটাতে হবে। এই রায়ের ফলে সরাসরি উপকৃত হবেন রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।

আদালতের কড়া নির্দেশ ও সময়সীমা: শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যেকার মোট বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। বাকি ৭৫ শতাংশ টাকা কীভাবে, কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রর নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছে আদালত। আগামী ৬ মার্চের মধ্যে এই কমিটিকে তাদের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে হবে এবং ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া টাকার প্রথম কিস্তি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিতে হবে।

রাজ্যের হাতে আইনি বিকল্প কী? সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকার কি এখনই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মেটাতে রাজি হবে? না কি আইনি পথে ফের সময় নেওয়ার চেষ্টা করবে? সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায় এবং কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্তর মতে, রাজ্য সরকারের হাতে এখনও কয়েকটি আইনি পথ খোলা রয়েছে:

রিভিউ পিটিশন (Review Petition): রায়ে কোনো তথ্যের ভুল বা টাইপোগ্রাফিকাল এরর থাকলে সরকার রিভিউ পিটিশন দাখিল করতে পারে। এটি সাধারণত বিচারপতিদের চেম্বারে আলোচিত হয়। সারবত্তা থাকলে তবেই তা শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়।

কিউরেটিভ পিটিশন (Curative Petition): রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়ে গেলে আইনি লড়াইয়ের সর্বশেষ ধাপ হিসেবে কিউরেটিভ পিটিশন করার সুযোগ থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যেহেতু অত্যন্ত স্পষ্টভাবে কিস্তি ও সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে এবং একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, তাই এখন রাজ্য সরকারের পক্ষে এই দায় এড়ানো বেশ কঠিন। যদি সরকার রিভিউ পিটিশনে না গিয়ে নির্দেশ কার্যকর করে, তবে আগামী মাসেই কর্মীদের হাতে আসতে পারে বকেয়া ভাতার প্রথম কিস্তি। এখন দেখার, নবান্ন আদালত অবমাননার ঝুঁকি নেয় নাকি বকেয়া টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করে।