পাকিস্তানের মসজিদে বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ৩১, ভারতের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগে গর্জে উঠল বিদেশমন্ত্রক

ইসলামাবাদের একটি মসজিদে শুক্রবারের নমাজ চলাকালীন ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তান। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পরেই বরাবরের মতো ভারতের দিকে আঙুল তোলে ইসলামাবাদ, যার পালটা দিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে পাকিস্তানের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ “ভিত্তিহীন এবং অর্থহীন”।
ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মসজিদে এই হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আমরা শোকাতপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাই। কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যজনক যে পাকিস্তান নিজেদের সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানের বদলে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের বিভ্রান্ত করছে। ভারত এই ধরণের সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে।”
ঘটনার ভয়াবহতা: পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় অবস্থিত ইমামবারগাহ খাদিজা-তুল-কুবরা-তে এই আত্মঘাতী হামলা ঘটে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছেন, হামলাকারী আফগান নাগরিক না হলেও ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে সে একাধিকবার আফগানিস্তানে যাতায়াত করেছিল।
বালুচ লিবারেশন আর্মির ‘অপারেশন হেরোফ ২’: অন্যদিকে, এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির মাঝেই বালুচ লিবারেশন আর্মি (BLA) তাদের ‘অপারেশন হেরোফ ২’ (Operation Herof II) জয়ের দাবি করেছে। তাদের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই অভিযানে ৩৬২ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। অভিযানে ৯৩ জন বিএলএ যোদ্ধাও প্রাণ হারিয়েছেন। বিএলএ-র দাবি, তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে এবং প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র দখল করেছে। পাকিস্তান যখন অভ্যন্তরীন বিদ্রহ এবং জঙ্গি হামলায় জর্জরিত, তখন ভারতের দিকে আঙুল তোলাকে কূটনৈতিক মহলে পাকিস্তানের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।