টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তোলপাড়! বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সিদ্ধান্তে ‘থ’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দামামা বাজতে আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত বাকি। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের বিতর্কে উত্তাল ক্রিকেট দুনিয়া। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা এবং পাকিস্তানের ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের এমন অবস্থানে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি তথা বর্তমান সিএবি প্রধান সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

সৌরভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপ বয়কট করল, তা তাঁর বোধগম্য হচ্ছে না। একইভাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের অবস্থান নিয়েও তিনি অবাক। মহারাজের কথায়, “জানি না কেন পাকিস্তান বিশ্বকাপের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না। এই প্রথম শুনলাম যে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না। আমার মতে, বাংলাদেশেরও এই বিশ্বকাপে খেলা উচিত ছিল।” দুই প্রতিবেশী দেশের এমন সিদ্ধান্তে অবাক হলেও সৌরভের বাজি টিম ইন্ডিয়াই। তিনি মনে করেন, ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের ট্রফি জেতার সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনা ভারতেরই।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১০ বছর পর ভারতের মাটিতে আয়োজিত হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তিলোত্তমার ইডেন গার্ডেন্সও সেজে উঠছে রাজকীয়ভাবে। ইডেনে রয়েছে ভারতের ম্যাচ ও গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল। এছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মতো বড় দলগুলো এখানে খেলবে। ২০১৬ সালের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সৌরভ বলেন, “সেই সময় অতিবৃষ্টির মধ্যেও ভারত-পাক ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা আমার আছে। ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালের কথা আজও মানুষ ভোলে না। এবারও ইডেন পুরোপুরি তৈরি।”

ইডেনের গ্যালারি মাতাতে সিএবি-র বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্লাডলাইট জ্বললেই দেখা যাবে অত্যাধুনিক লেজার শো। নিরাপত্তার বিষয়েও কোনও আপস করা হচ্ছে না। শুক্রবার কলকাতার নগরপাল সুপ্রতিম সরকার ইডেনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই আজ মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে আমেরিকার মুখোমুখি হচ্ছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় সকাল ১১টায় নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে মাঠের লড়াই। ইডেনে আজ দুপুর ৩টেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তিলোত্তমার ক্রিকেট যজ্ঞ। মাঠের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে টিকিটের তদারকি— সব মিলিয়ে ‘মহারাজ’ এখন চূড়ান্ত ব্যস্ত।