মৃত্যুফাঁদ অনলাইন গেম! ‘সরি পাপা’ লিখে ৯ তলা থেকে ঝাঁপ ৩ বোনের, গাজিয়াবাদে হাড়হিম করাকাণ্ড

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। মঙ্গলবার রাত ২টো নাগাদ একটি বহুতল আবাসনের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল তিন বোন। মৃতদের বয়স যথাক্রমে ১২, ১৪ এবং ১৬ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত নাবালিকাদের নাম নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) এবং পাখি (১২)। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে কেবল লেখা ছিল— ‘সরি পাপা’। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। মৃতদের বাবার দাবি ঘিরে দানা বাঁধছে ‘অনলাইন গেম’-এর তত্ত্ব।

গাজিয়াবাদের টিলা মোড় থানা এলাকার ভারত সিটি আবাসনের এই ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। মেয়েদের বাবা চেতন কুমার পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়েরা একটি অনলাইন কোরিয়ান গেমে (Korean Lover Game) মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিল। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার ছিল ওই গেমের শেষ টাস্ক বা কাজ। বাবার ধারণা, গেমের চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন করতেই তারা ৯ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছে। তিনি আরও জানান, এই গেমে মোট ৫০টি টাস্ক ছিল এবং মেয়েরা ঝাঁপ দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করে সিঁড়ি ব্যবহার করেছিল। যদিও বাবা দাবি করেছেন যে তিনি আগে এই আসক্তির কথা জানতেন না।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও কিছু জটিল তথ্য। চেতন কুমারের দুই স্ত্রী। আত্মহত্যাকারী তিন বোনের মধ্যে দুইজন দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান এবং একজন প্রথম স্ত্রীর। জানা গিয়েছে, গত দুই বছর ধরে ওই তিন বোন স্কুলেও যেত না। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের মেঝেতে পরিবারের সদস্যদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রচুর ছবি দেখতে পায়। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটটি বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

গাজিয়াবাদের পুলিশ সুপার অতুল কুমার সিং জানিয়েছেন, “মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। অনলাইন গেমিং আসক্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেয়েদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তাদের ডিজিটাল অ্যাক্টিভিটি বিশ্লেষণের জন্য সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।” পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ওই মারণ গেমটির উৎস সন্ধানেও নেমেছে পুলিশ। এক লহমায় তিনটি তরতাজা প্রাণের এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ায় শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়।