সাবধান! আপনার এই ৬টি রোজকার অভ্যাসই শরীরে ক্যানসারের বীজ বুনছে না তো? মিলিয়ে নিন আজই!

ক্যানসার—নামটা শুনলেই বুক কেঁপে ওঠে। যখনই কারো এই মারণ রোগের কথা শুনি, মনে প্রশ্ন জাগে, ‘হঠাৎ এমনটা হলো কীভাবে?’ কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ক্যানসার হঠাৎ হওয়া কোনো বিষয় নয়। এটি বছরের পর বছর ধরে আমাদের শরীরে ধীরে ধীরে ডালপালা মেলে। বিশেষ করে আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট ভুল অভ্যাস, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার ধরন এই মারণ রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। আজ ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ক্যানসার দিবস। প্রতি বছর এই দিনে আমরা সচেতনতার পাঠ নিই, পরিসংখ্যান পড়ি, কিন্তু পরদিন থেকেই আবার সেই পুরনো অনিয়মে ফিরে যাই। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ বাইরে থেকে আসে না; আমরাই প্রতিদিন একটু একটু করে একে শরীরে জায়গা দিই।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস সাইলেন্ট কিলারের মতো কাজ করছে। প্রথমত, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। রাত জেগে মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রাখা বা কাজের চাপে ঘুমকে অবহেলা করা শরীরের স্বাভাবিক ‘রিপেয়ার মেকানিজম’ বা মেরামত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীর নিজেকে সারিয়ে তোলার সময় পায় না। দ্বিতীয়ত, আমরা অনেকেই ভাবি বাড়িতে তৈরি খাবার মানেই সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু প্রতিদিন পোড়া রুটি, অতিরিক্ত তেল-মশলা, রিফাইন করা ময়দা এবং চিনির অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরে প্রদাহ (Inflammation) তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো অসময়ে খাওয়া। রাত ১১টায় ডিনার করা বা খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ার অভ্যাস হজম প্রক্রিয়ার বারোটা বাজিয়ে দেয়। চতুর্থত, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। কাজের চাপ এবং দুশ্চিন্তা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভিতর থেকে ফোকলা করে দেয়। পঞ্চম ভুলটি হলো শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। সারাদিন চেয়ারে বসে থাকা বা সোফায় শুয়ে কাটানো স্থূলতা বাড়ায়, যা ক্যানসার কোষ সক্রিয় হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। এছাড়া ষষ্ঠত, রান্নাঘরের কিছু সাধারণ ভুল যেমন—প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার রাখা, বারবার একই তেল গরম করে রান্না করা বা স্ক্র্যাচ পড়ে যাওয়া নন-স্টিক বাসনের ব্যবহার খাবারের সাথে বিষাক্ত রাসায়নিক আমাদের শরীরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।

বিশ্ব ক্যানসার দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের জানানো যে, এই রোগ হঠাৎ হানা দেয় না। এটি আমাদের জীবনযাত্রার ভুলেই গড়ে ওঠে। তাই আজই সময় নিজেকে প্রশ্ন করার। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ সর্বদা সহজ। আপনার ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তনই পারে এই বড় ঝুঁকি থেকে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে।