স্বচ্ছ ভারত মিশনে ‘অস্বচ্ছ’ কারবার! ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও ব্লক কোঅর্ডিনেটর

মোদী সরকারের সাধের প্রকল্প ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর টাকা পকেটে ভরতে গিয়ে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো এক সরকারি আধিকারিকের। ড্রেন ও সোকপিট তৈরির বকেয়া বিল মেটানোর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে বুন্দু ব্লকের কোঅর্ডিনেটর জগরনাথ গোপকে গ্রেপ্তার করল দুর্নীতি দমন ব্যুরো (ACB)। সোমবার দুপুরে পানীয় জল ও স্যানিটেশন দপ্তরের অফিস থেকেই তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত: অভিযোগকারী শহীদ রাজা রাঁচির এসিবি দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগে জানানো হয়, জল ও স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় বুন্দু ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েতে মোট ১৬৯টি ড্রেন এবং সোকপিট তৈরি করা হয়েছিল। এই কাজের জন্য বরাদ্দ টাকা ছাড়ার বিনিময়ে ব্লক কোঅর্ডিনেটর জগরনাথ গোপ ১,৮১,৪৭৫ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
ACB-র ফাঁদ ও গ্রেপ্তার: শহীদ রাজা এই বিশাল অঙ্কের ‘কাটমানি’ দিতে অস্বীকার করেন এবং প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। এসিবির প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর, গত ১ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলা রুজু করা হয়। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সোমবার বিকেলে বুন্দু উপ-বিভাগের সহকারী প্রকৌশলীর অফিসে যখন শহীদ রাজা প্রথম কিস্তির ২৫,০০০ টাকা জগরনাথের হাতে দিচ্ছিলেন, তখনই ওত পেতে থাকা এসিবি দল তাঁকে ঘিরে ফেলে।
আইনি পদক্ষেপ: গ্রেপ্তারের সময় জগরনাথের কাছ থেকে ঘুষের পুরো টাকাটাই উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আধিকারিককে রাঁচি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনের মতো একটি জনহিতকর প্রকল্পে এমন সরাসরি ঘুষ চাওয়ার ঘটনা প্রশাসনের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুর্নীতি দমনে এসিবির এই সাফল্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।