ভারতীয় বাজারে আর মিলবে না বাংলাদেশি মাছ! মেঘালয় সরকারের কড়া নিষেধে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি মাছের প্রবেশ রুখতে এবার বেনজির পদক্ষেপ নিল মেঘালয় সরকার। চোরাপথে আসা মাছের কারবার বন্ধ করতে এবং জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশি মাছের জোগানে বড়সড় টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? মেঘালয় সরকার সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন চেক পয়েন্ট এবং দুর্গম চোরাপথ ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি মাছ অবৈধভাবে ভারতের বাজারে ঢুকছে। এই মাছগুলো কোনো বৈধ নথি বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই রাজ্যে প্রবেশ করায় জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনিয়ন্ত্রিতভাবে এই মাছের প্রবেশ ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ‘সিঁদুরে মেঘ’ দেখছে প্রশাসন।
জারি হলো কড়া আইনি ধারা: মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলস জেলা প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বৈধ কাগজপত্রহীন কোনো মাছই আর জেলায় প্রবেশ করতে পারবে না। ভারপ্রাপ্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS, ২০২৩)-এর ১৬৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ মাছের পরিবহন, মজুত এবং বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শাস্তির কড়া হুঁশিয়ারি: প্রশাসনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, জেলার কোনো বাজারে বা এলাকায় এই ধরণের অবৈধ মাছ বিক্রি করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ। নিয়ম অমান্য করে মাছ মজুত বা বিতরণ করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং জেল হতে পারে। মূলত সীমান্ত বাণিজ্য নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।