পরীক্ষার ঠিক আগে উধাও অ্যাডমিট কার্ড! মুখ্যমন্ত্রীর একটি ফোনেই বদলে গেল ছাত্রীর ভাগ্য

মাধ্যমিক পরীক্ষা জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার ঠিক আগেই যদি নিজের পরিচয়পত্র বা অ্যাডমিট কার্ড হারিয়ে যায়, তবে একজন ছাত্রীর মনের অবস্থা কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। নদিয়া জেলার দত্তপুলিয়া ইউনিয়ন অ্যাকাডেমি ফর গার্লসের এক ছাত্রীর জীবনে নেমে এসেছিল ঠিক তেমনই এক কালো মেঘ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিক হস্তক্ষেপে অন্ধকার কাটিয়ে আলোর মুখ দেখল ওই কিশোরী। রক্ষা পেল তার একটি মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত যান্ত্রিক ও দফতরিক ত্রুটিকে কেন্দ্র করে। রেজিস্ট্রেশন থাকা সত্ত্বেও ওই ছাত্রীর অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু হয়নি। পরীক্ষা শুরুর যখন আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, তখনও হাতে আসেনি সেই কাঙ্ক্ষিত কাগজ। চরম অনিশ্চয়তায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ছাত্রী ও তার পরিবার। একটি বছর নষ্ট হওয়ার ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। বিষয়টি নিয়ে তৎক্ষণাৎ উদ্যোগী হন প্রধান শিক্ষিকা রূপা পাল এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক সমীর কুমার পোদ্দার।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিষয়টি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনা হয়। সাধারণ এক ছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁরা বিন্দুমাত্র দেরি না করে সংশ্লিষ্ট দফতরকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। নবান্নের নির্দেশে তৎপর হয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত ওই ছাত্রীর অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হয়, যা সাধারণত প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ বিষয়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ম্যাজিক’ স্পর্শে অবশেষে মাধ্যমিকের বেঞ্চে বসার সুযোগ পেয়েছে দত্তপুলিয়ার ওই ছাত্রী। এই ঘটনায় খুশির জোয়ার ওই স্কুল ও পরিবারে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মানবিক রূপ আরও একবার প্রমাণ করল যে, সঠিক নেতৃত্ব থাকলে কোনো প্রশাসনিক বাধা বা যান্ত্রিক ত্রুটি শিক্ষার পথে অন্তরায় হতে পারে না। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে, আজ যদি দিদি পাশে না থাকতেন, তবে হয়তো মেয়ের একটি বছর চিরতরে হারিয়ে যেত।