সহকর্মীদের পেনশনের টাকায় বিলাসিতা! প্রাক্তন CISF আধিকারিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করল ED।

দেশের নিরাপত্তা কর্মীদের জমানো পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিআইএসএফ (CISF)-এর প্রাক্তন এএসআই রূপ সিং মীনার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। হায়দ্রাবাদের রাঙ্গারেড্ডি আদালতে এই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। জওয়ানদের ন্যাশনাল পেনশন স্কিম (NPS) থেকে জালিয়াতি করে টাকা তুলে ব্যক্তিগত কাজে খরচ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে মীনার বিরুদ্ধে।
জালিয়াতির মাস্টারপ্ল্যান: কীভাবে চলত এই ‘অপারেশন’?
হায়দ্রাবাদের ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি অ্যাকাডেমি (NISA)-তে এনপিএস বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন রূপ সিং মীনা সমস্ত কর্মীর তথ্য অ্যাক্সেস করার ক্ষমতা রাখতেন। তদন্তে জানা গেছে:
-
তিনি জওয়ানদের পার্মানেন্ট রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর (PRAN)-এর সাথে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরগুলো গোপনে বদলে দিতেন।
-
এরপর অকাল উত্তোলনের (Premature Withdrawal) আবেদন করে সরাসরি নিজের বা পরিবারের অ্যাকাউন্টে টাকা আনিয়ে নিতেন।
-
এইভাবে তিনি কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানদের মোট ৬০ লক্ষ ২৬ হাজার ৩২১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
[Image: ED logo or symbolic image of CISF and Pension funds]
টাকা কোথায় গেল?
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই বিপুল পরিমাণ টাকা লুকানোর জন্য রূপ সিং মীনা তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং এমনকি কিছু অপরিচিত লোকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছিলেন। আত্মসাৎ করা এই টাকা তিনি ব্যবহার করেছেন: ১. নিজের পরিবারের বিয়ের খরচ মেটাতে। ২. পুরনো ব্যক্তিগত ঋণ শোধ করতে। ৩. দুগ্ধ ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে।
সিবিআই তদন্ত ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
ঘটনাটি সামনে আসতেই ২০২৫ সালের জুন মাসে তদন্তভার দেওয়া হয় সিবিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখার হাতে। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে ইডি ইতিমধ্যেই এই জালিয়াতির সাথে যুক্ত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত মীনা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সরকারি সিস্টেমের ফাঁক গলে এই আর্থিক অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন।