মাঝ সমুদ্রে বিকল ইঞ্জিন, তারপর বাংলাদেশের জেল! বন্দিদশা কাটিয়ে ঘরের ছেলেরা ফিরতেই উৎসবের মেজাজ

দীর্ঘ ১০০ দিনের উৎকণ্ঠা আর বিনিদ্র রজনীর অবসান। ওপার বাংলার অন্ধকার কারাকক্ষ থেকে মুক্তি পেয়ে অবশেষে নিজের দেশের মাটিতে পা রাখলেন ১৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে তাঁদের দেখা মাত্রই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ যেন বাঁধ ভেঙেছে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলে।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে? প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ১৩ অক্টোবর ‘এফবি শুভযাত্রা’ নামক একটি ট্রলারে চড়ে কুলতলি থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ১৪ জন মৎস্যজীবী। কিন্তু ১৯ অক্টোবর মাঝ সমুদ্রে হঠাৎই ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণহীন ট্রলারটি ভাসতে ভাসতে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশের জলসীমায়। অনুপ্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশের নৌবাহিনী তাঁদের আটক করে। বাগেরহাট জেলা আদালতের নির্দেশে তাঁদের ঠাঁই হয় জেল হেফাজতে। সেই থেকেই শুরু হয় পরিবারের চরম অনিশ্চয়তা।
কূটনৈতিক জয় ও মুক্তি: দীর্ঘদিন ধরে চলা উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার পর অবশেষে বরফ গলে। ভারত ও বাংলাদেশ— দুই দেশের উপকূল রক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে জলসীমায় মৎস্যজীবী বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভারত এদিন মোট ২৩ জন মৎস্যজীবীকে ফিরে পায়। এর মধ্যে ১৪ জন পশ্চিমবঙ্গের (কাকদ্বীপ, কুলতলি ও হুগলি) বাসিন্দা এবং ৯ জন অন্ধ্রপ্রদেশের। বিনিময়ে ভারত ১১৫ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে তাঁদের দেশের হাতে তুলে দেয়।
এদিন ফ্রেজারগঞ্জ বন্দরে কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক প্রীতম সাহা ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জেল থেকে ফেরা এক মৎস্যজীবী আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “ভেবেছিলাম আর কোনোদিন সন্তানদের দেখতে পাব না। দুই দেশের সরকারকে ধন্যবাদ আমাদের ফিরিয়ে আনার জন্য।” প্রশাসনের তৎপরতায় এই খুশি ফিরে আসায় স্বস্তিতে মৎস্যজীবী সংগঠনগুলোও।