প্রাইভেট প্লেন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলে বিমার টাকা কি পাওয়া যায়? অজিত পওয়ারের মৃত্যুর পর বড় প্রশ্ন!

জেলা পরিষদ নির্বাচনের জনসভা সেরে ফেরার পথে বারামতীতে ভেঙে পড়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের ব্যক্তিগত বিমান। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় উপমুখ্যমন্ত্রীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই শোকাবহ ঘটনার মাঝেই সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে— ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট বিমানে যারা যাতায়াত করেন, তাঁদের কি কোনও ইনস্যুরেন্স বা বিমার সুরক্ষা থাকে?

প্রাইভেট বিমানের বিমা কি সাধারণ ফ্লাইটের মতোই?

উত্তর হলো— না। সাধারণ বাণিজ্যিক বিমানের তুলনায় প্রাইভেট বিমানের বিমা প্রক্রিয়াটি অনেকটাই আলাদা এবং ‘কাস্টমাইজড’ বা বিশেষায়িত। সাধারণত বিমানের মালিক বা যে সংস্থা বিমানটি পরিচালনা করে, তারাই এই বিমা করিয়ে থাকে।

  • কাদের জন্য এই সুরক্ষা? এই বিমা পলিসির আওতায় কেবল যাত্রী নন, বরং বিমান চালক (Crew) এবং খোদ বিমানটির ক্ষয়ক্ষতিও কভার করা হয়।

  • কী কী কভার পাওয়া যায়? সাধারণত দুর্ঘটনায় মৃত্যু, স্থায়ী পঙ্গুত্ব এবং চিকিৎসার বড় খরচ এই বিমার আওতায় থাকে।

কত টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়?

সাধারণ এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক সুনির্দিষ্ট হলেও প্রাইভেট বিমানের ক্ষেত্রে তা নির্ভর করে পলিসির প্রিমিয়ামের ওপর। হাই-প্রোফাইল যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বিমার শর্তাবলী বেশ জটিল হয়, তাই যাত্রীদের আলাদা করে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ক্লেম পাওয়ার পদ্ধতি কী?

প্রাইভেট বিমানের ক্ষেত্রে বিমার টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে: ১. দুর্ঘটনার পর প্রথমে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয়। ২. এরপর এফআইআর (FIR), মেডিকেল রিপোর্ট এবং পলিসির নথিপত্র বিমা সংস্থাকে জমা দিতে হয়। ৩. সংস্থা সমস্ত তথ্য যাচাই করার পর নমিনি বা উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝিয়ে দেয়।

অজিত পওয়ারের মতো ভিভিআইপি (VVIP)-দের ক্ষেত্রে এই বিমা সুরক্ষা সাধারণত অত্যন্ত উচ্চমানের থাকে, যা সরকারি এবং ব্যক্তিগত উভয় স্তর থেকেই তদারকি করা হয়।