‘প্লিজ আমাকে বাঁচান, আমি টর্চ দেখাচ্ছি!’ ২০ ফুট গভীর গর্তে ইঞ্জিনিয়ারের সলিল সমাধি, উত্তাল যোগীরাজ্য

উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২৭ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতা। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেক্টর ১৫০ এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের জন্য খুঁড়ে রাখা ২০ ফুট গভীর জলভর্তি গর্তে পড়ে যায় তাঁর এসইউভি গাড়িটি। কিন্তু এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং উদ্ধারকারীদের গাফিলতি এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার এক ভয়ঙ্কর দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনিন্দর নামে এক ডেলিভারি এজেন্টের বয়ান রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মনিন্দর জানিয়েছেন, রাত পৌনে ২টো নাগাদ ঘন কুয়াশার জেরে গাড়িটি গর্তে পড়ে যায়। গাড়িটি যখন ডুবছে, যুবরাজ তখন তাঁর বাবাকে ফোন করে খবর দেন। পুলিশ এবং দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে এলেও তাঁরা জলে নামতে অস্বীকার করেন। মনিন্দরের অভিযোগ, “উদ্ধারকারীরা অজুহাত দিচ্ছিলেন যে জল খুব ঠান্ডা, বেসমেন্টে লোহার রড রয়েছে, তাঁদের বিপদ হতে পারে। অথচ ওই যুবক তখন গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে টর্চ জ্বালিয়ে সমানে চিৎকার করছিলেন—’প্লিজ আমাকে বাঁচান’।”

শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ না নামায় ডেলিভারি এজেন্ট মনিন্দর নিজেই কোমরে দড়ি বেঁধে বরফশীতল জলে ঝাঁপ দেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। টানা ৯০ মিনিট বাঁচার লড়াই চালিয়ে অবশেষে জলের অতলে তলিয়ে যান ওই তরুণ ইঞ্জিনিয়ার। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, তাঁর ফুসফুসে ২০০ মিলিমিটার জল ঢুকে গিয়েছিল।

এই ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সরানো হয়েছে এবং ঘটনার SIT তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই গভীর গর্তের সামনে কোনও সতর্কতা বোর্ড বা রিফ্লেক্টর ছিল না। ১৫ দিন আগেও সেখানে এক ট্রাক চালক পড়ে গিয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, বারবার দুর্ঘটনা সত্ত্বেও কেন টনক নড়েনি প্রশাসনের? এক যুবকের করুণ মৃত্যু এখন উত্তরপ্রদেশের নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে বিরাট প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।