প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে সুপ্রিম কোর্টে বড় মামলা! সাংবিধানিক বিপর্যয়ের অভিযোগে যা ঘটতে চলেছে…

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) অন্দরে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সহকর্মীদের মতামতকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার অভিযোগে নজিরবিহীন আইনি বিপাকে পড়লেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের মতামতকে তোয়াক্কা না করে একচ্ছত্রভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় সম্মতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলায় আগামী সপ্তাহেই শুনানির দিন ধার্য করেছে।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। যেখানে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, বাদ দেওয়া এবং ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থায় সমস্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় সর্বসম্মতিক্রমে কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে। কিন্তু সেখানে যদি এককভাবে সিইসি একতরফা নির্দেশ জারি করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত গম্ভীর এবং সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী। এই প্রেক্ষাপটেই মামলাটির জরুরি ভিত্তিক শুনানির আর্জি জানান প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং।

সুপ্রিম কোর্টে কী আর্জি জানানো হয়েছে?
সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সিংয়ের দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় একাধিক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে:

গত অক্টোবর মাস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কমিশনের নেওয়া সমস্ত ফাইল এবং রেকর্ড তলব করা হোক।

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হোক।

মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর সমস্ত প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হোক।

অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কেবল বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই যেন কমিশনের যাবতীয় কাজ পরিচালিত হয়।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আইনজীবীর সমস্ত সওয়াল শোনার পর আগামী সপ্তাহেই মামলাটির শুনানির আশ্বাস দিয়েছেন। এক ব্যক্তির হাতে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুতর অভিযোগ ঘিরে এখন থেকেই তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক ও আইনি জল্পনা। স্বাধীন দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে এই মামলার রায় বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *