পাহাড়প্রমাণ বিপদ! লালু-তেজস্বীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন আদালতের, ‘অপরাধী চক্র’ তকমা পেল পরিবার!

আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদব ও তাঁর পরিবারের ওপর আইনি গেরো আরও শক্ত হলো। বহুল চর্চিত ‘চাকরির বিনিময়ে জমি’ (Land-for-Jobs) কেলেঙ্কারি মামলায় শুক্রবার দিল্লির একটি আদালত লালু প্রসাদ যাদব, তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী এবং পুত্র তেজস্বী যাদব সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণে লালু পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
‘একটি সংগঠিত অপরাধী চক্র’— কড়া মন্তব্য আদালতের মামলার শুনানিতে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত অত্যন্ত কঠোর পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। বিচারক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, লালু যাদব এবং তাঁর পরিবার একটি সুপরিকল্পিত ‘অপরাধী চক্র’ হিসেবে কাজ করছিল। তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে একটি গভীর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। সিবিআই-এর পেশ করা প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত নিশ্চিত যে, রেলওয়েতে চাকরির বিনিময়ে জমি হাতিয়ে নেওয়ার একটি বড়সড় চক্র সক্রিয় ছিল। এই চার্জ গঠনের ফলে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে গেল।
সিবিআই চার্জশিটের বিস্ফোরক তথ্য সিবিআই-এর চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইউপিএ সরকারের রেলমন্ত্রী থাকাকালীন লালু প্রসাদ যাদব ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রেলের ‘গ্রুপ-ডি’ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিলেন তিনি। যোগ্যতার বদলে প্রার্থীদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে বা উপহার হিসেবে জমি নেওয়া হয়েছিল।
এই জমিগুলি সরাসরি লালু প্রসাদ যাদবের পরিবারের সদস্য অথবা তাঁদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল। চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রার্থীরা প্রথমে বদলি কর্মচারী হিসেবে রেলে যোগ দিতেন এবং জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হলেই তাঁদের চাকরি স্থায়ী করা হতো। বর্তমানে রাবড়ি দেবী এবং বিহারের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব এই দুর্নীতি মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আইনি লড়াইয়ের মুখে দাঁড়িয়েছেন।