তৃণমূলের গোপন নথি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ! আইপ্যাক কাণ্ডে ইডি-র বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী

ভোটের মুখে তৃণমূলের অন্দরের গোপন রণকৌশল কি এবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে? বৃহস্পতিবার সল্টলেক সেক্টর ফাইভের আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি ঘিরে এমনই আশঙ্কায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানার পর এবার সরাসরি সংস্থার এগারো তলার দপ্তরে হানা দিলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের গোয়েন্দারা। খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী সুজিত বসু।

অভিযান চলাকালীন প্রায় ৪৫ মিনিট অফিসের ভেতরে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতা বলেন, “ভোর রাত থেকে তল্লাশি চলছে। আইপ্যাক আমাদের ভোটকুশলী সংস্থা। ল্যাপটপ, আইফোন থেকে শুরু করে দলের যাবতীয় ডেটা, স্ট্র্যাটেজি এবং প্রার্থী তালিকা— সব ফরেন্সিক টিম দিয়ে ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়েছে। এটা স্রেফ তল্লাশি নয়, এটা লুঠ!”

এদিন সল্টলেকের ওই অফিসের বাইরে পরিস্থিতি ছিল অগ্নিগর্ভ। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সিআরপিএফ এলাকা ঘিরে রাখে, অন্যদিকে পাল্টা পৌঁছে যায় রাজ্য পুলিশের র‌্যাফ (RAF)। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এমনকি অমর্ত্য সেন বা জয় গোস্বামীর মতো ব্যক্তিত্বদের পাঠানো এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত নথিও ইডি হাতিয়ে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহকে আক্রমণ করে মমতা হুঁশিয়ারি দেন, “টাকা আর পেশী শক্তি দিয়ে জেতার চেষ্টা হচ্ছে। সব সীমা ছাপিয়ে গিয়েছে। এই ইডি হানার পর আপনাদের আসন সংখ্যা শূন্য হয়ে যাবে!”