৭৮টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন দেবলীনা! হাসপাতালে দাঁড়িয়ে দিদির বিস্ফোরক দাবি

নিজের সুরের জাদুতে মুগ্ধ করেছিলেন শ্রোতাদের, কিন্তু সেই জনপ্রিয় ইউটিউবার ও গায়িকা দেবলীনা নন্দী যে মনের গভীরে এতটা ক্ষত নিয়ে চলছিলেন, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ। পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহের জেরে একগুচ্ছ ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এই গায়িকা। বর্তমানে তিনি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
দেবলীনার এই চরম পদক্ষেপের নেপথ্যে উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর কারণ। অভিযোগ, স্বামী প্রবাহ নন্দীর শর্ত ছিল— দেবলীনাকে তাঁর মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই নিজেকে শেষ করে দেওয়ার পথ বেছে নেন তিনি। দেবলীনার দিদি শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস জানান, “বোন অনেকটা ভালো থাকলেও মারাত্মক ট্রমার মধ্যে আছে। সোশাল মিডিয়ার নেতিবাচক কমেন্ট ওর ওপর প্রভাব ফেলছে, তাই ডাক্তার ওকে ফোন থেকে দূরে রাখতে বলেছেন।” ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তার প্রেক্ষিতে দিদির সাফ জবাব, “সবকিছুর প্রমাণ আছে। অতগুলো ওষুধ শরীরে যাওয়ায় পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।”
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, এতগুলো ওষুধ খাওয়ার পর একজন মানুষের শারীরিক অবস্থা কেমন হবে তা নির্ভর করে তাঁর বয়স ও শারীরিক গঠনের ওপর। চিকিৎসক ডা. অতনু পালের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন দেবলীনা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘটনার পর থেকে স্বামী প্রবাহ বা তাঁর পরিবারের কেউ দেবলীনার খোঁজ নেননি। শর্মিষ্ঠার দাবি, চন্দননগর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও তাঁদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়, কিন্তু মামলা নেওয়া হয়নি। এত কিছুর পরেও দেবলীনা নাকি প্রবাহকে ভালোবাসেন এবং সংসার করতে চান। জীবনের এই কঠিন যুদ্ধে সুরের জাদুকরী শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।