ভোটার তালিকায় বিদেশিদের রুখতে বড় পদক্ষেপ! সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট’ (SIR) নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনের মাঝেই সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় বয়ান দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট দাবি, ভোটার তালিকায় নাম তোলার আগে কোনো ব্যক্তি প্রকৃতই ভারতীয় নাগরিক কি না, তা যাচাই করা কমিশনের কেবল অধিকার নয়, বরং সাংবিধানিক কর্তব্য। কোনোভাবেই যাতে কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতের নির্বাচনে ভোট দিয়ে জনমত প্রভাবিত করতে না পারেন, তা সুনিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে কমিশনের পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী। আবেদনকারীদের সেই দাবি তিনি সজোরে খারিজ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে নাগরিকত্ব নির্ধারণের এক্তিয়ার কমিশনের নেই এবং শুধুমাত্র আধার কার্ড থাকলেই ভোটার তালিকায় নাম থাকা উচিত। দ্বিবেদী যুক্তি দেন, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংবিধান প্রণেতারা গণপরিষদের সময় থেকেই ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা রাখার ওপর জোর দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর মতো সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার প্রাথমিক শর্তই হলো ভারতীয় নাগরিক হওয়া। এমনকি উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের ক্ষেত্রেও এই শর্ত বাধ্যতামূলক। তাই ভোটার তালিকায় কার নাম থাকবে, তা নির্ধারণের আগে নাগরিকত্ব যাচাই অপরিহার্য।

কমিশন আরও জানিয়েছে, সংবিধানের ৩২৪ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের পূর্ণ ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়েছে। এই SIR প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো মৃত ব্যক্তি, স্থানান্তরিত ভোটার এবং বেআইনিভাবে নাম তোলা বিদেশিদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তবে কমিশন সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই নাগরিকত্ব চলে যাওয়া নয়। কাউকে ‘অ-ভারতীয়’ ঘোষণা করার বা নাগরিকত্ব বাতিল করার ক্ষমতা একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রয়েছে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের অধীনে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়া কমিশনের উদ্দেশ্য নয়। প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ প্রত্যেকেরই থাকবে। আগামী বৃহস্পতিবার এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।