হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছে বাংলা, কিন্তু সবজির বাজারে এখনও ‘আগুন’! পকেট গড়ের মাঠ মধ্যবিত্তের।

উত্তরবঙ্গজুড়ে এখন শীতের ঝোড়ো ইনিংস। কুয়াশাভেজা ভোর আর কনকনে ঠান্ডায় জুবুথুবু জলপাইগুড়ি থেকে ধূপগুড়ি। মঙ্গলবার ভোরের দিকে পারদ নেমে গিয়েছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। কিন্তু আবহাওয়ার এই ঠান্ডা আমেজও বাজারদরকে ঠান্ডা করতে পারছে না। শীতকালীন টাটকা সবজির লোভে বাজারে গিয়ে কার্যত ছ্যাঁকা খাচ্ছেন আমজনতা।
বাজারের হালহকিকত: জলপাইগুড়ি দিনবাজার থেকে শুরু করে ধূপগুড়ির পাইকারি বাজার— সর্বত্রই ছবিটা প্রায় এক। শীতের ভরা মরশুমেও বেশ কিছু সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে।
-
টমেটো ও শশা: শীতের সালাদের এই দুই প্রধান উপকরণের দাম এখনও আকাশছোঁয়া।
-
মটরশুঁটি: কড়াইশুঁটির কচুরির আমেজে থাবা বসাচ্ছে এর চড়া দাম।
-
নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি: অন্যান্য আনাজের দাম সামান্য কমলেও তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।
কেন এই দাম বৃদ্ধি? ব্যবসায়ীদের মতে, উত্তরের জেলাগুলিতে কুয়াশার দাপট এবং মাঝে হওয়া অসময়ের বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু ফসলের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় জোগান কিছুটা কম থাকায় বাইরের রাজ্য থেকে আসা সবজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়াও দাম না কমার অন্যতম বড় কারণ।
মধ্যবিত্তের মাথায় হাত: বাজার করতে আসা এক ক্রেতার কথায়, “ভেবেছিলাম শীত বাড়লে সবজির দাম কমবে। কিন্তু ব্যাগ ভরাতে গেলেই হাজার টাকার নোট শেষ হয়ে যাচ্ছে।” ব্যাগ ভর্তি করে বাজার করা এখন অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছেই বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কনকনে ঠান্ডায় শরীর কাঁপলেও, বাজারের উত্তাপে পকেট পুড়ে খাক হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
জলপাইগুড়ির খুচরো ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ স্থানীয় চাষিদের ফসল আরও বেশি পরিমাণে বাজারে এলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।