২০২৬ কেন পাহাড়ের মতো ঠান্ডা হচ্ছে গোটা বাংলায়? জেনেনিন ১৮৯৯ সালে কী হয়েছিল?

ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা বাংলা, রোদের দেখা নেই বললেই চলে। টানা দু’দিন ‘কোল্ড ডে’ বা শীতল দিনের সাক্ষী থাকল রাজ্য। কনকনে উত্তুরে হাওয়ার দাপটে মঙ্গলবার কলকাতায় তৈরি হলো এক নতুন রেকর্ড। আলিপুরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি কমে থমকে গেল মাত্র ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০১৩ সালের পর কলকাতার শীতলতম জানুয়ারি।

রেকর্ডের পর রেকর্ড: কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। এক নজরে দেখে নিন আজকের তাপমাত্রার গ্রাফ:

  • কলকাতা: সর্বনিম্ন ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৩ বছরের রেকর্ড ভাঙল)।

  • শ্রীনিকেতন: সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাত্র ১৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • দমদম: সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উল্লেখ্য, ১৮৯৯ সালের ২০ জানুয়ারি কলকাতার তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রিতে নেমেছিল, যা ছিল সর্বকালীন রেকর্ড। তবে ২০১৩ বা ২০১৮-র শীতের দাপটকেও এবার টেক্কা দিচ্ছে ২০২৬-এর এই মরশুম।

কেন এই অকাল তুষারযুগ? আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা কনকনে শীতল হাওয়ার গতিবেগ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে দিনের বেলাতেও রোদের তেজ অনুভূত হচ্ছে না এবং হাড়কাঁপানো শীত বজায় থাকছে।

শৈত্যপ্রবাহের কমলা সতর্কতা (Orange Alert): আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যে ‘শীতল দিন’-এর সতর্কতা জারি থাকছে। বিশেষ করে বর্ধমান ও বীরভূমে শৈত্যপ্রবাহের কমলা সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের মালদা, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও দুই দিনাজপুরে ঘন কুয়াশা ও চরম শীতল পরিস্থিতি বজায় থাকবে।

কবে মিলবে স্বস্তি? হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগামী চার দিন তাপমাত্রার বিশেষ হেরফের হবে না। আকাশ মূলত শুষ্ক থাকবে। চার দিন পর থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বড়জোর ২ ডিগ্রি বাড়তে পারে। তবে আপাতত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় পারদ ১০ ডিগ্রির আশপাশেই ঘোরাফেরা করবে। দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও বীরভূমেও ঘন কুয়াশার দাপট থাকবে।