হিন্দু প্রার্থীর মননোয়ন বাতিল করলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, এ কেমন গণতন্ত্র?

নামেই কি গণতান্ত্রিক দেশ বাংলাদেশ? ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে। গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে চাওয়া সংখ্যালঘু সমাজের অন্যতম পরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট গোবিন্দচন্দ্র প্রামাণিকের মনোনয়ন বাতিল করে দিল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
কেন বাতিল হলো মনোনয়ন? বাংলাদেশের নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্বতন্ত্র বা নির্দল প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর নির্বাচনী এলাকার অন্তত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। গোবিন্দচন্দ্র প্রামাণিকের দাবি, তিনি সমস্ত নিয়ম মেনেই স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার শেষ মুহূর্তে সেই স্বাক্ষরগুলিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে মনোনয়ন বাতিল করে দেন।
বিএনপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ: মনোনয়ন বাতিল হওয়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিএনপি (BNP)-এর ভয়ে এবং তাদের সরাসরি হুমকিতে তাঁর হয়ে স্বাক্ষর করা ভোটাররা শেষ মুহূর্তে সই প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই একতরফাভাবে তাঁর প্রার্থীপদ খারিজ করে দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
সংখ্যালঘুদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা? বিশিষ্ট সাংবাদিক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী মনে করেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সংগঠনগুলো পরিকল্পিতভাবে বিএনপির জয় নিশ্চিত করতে চাইছে। যাতে কোনো নির্দল বা জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিএনপির ভোটে ভাগ বসাতে না পারে, তার জন্য এই ‘মনোনয়ন বাতিল’-এর অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের খবর সামনে এসেছিল। এবার নির্বাচনে হিন্দু প্রার্থীদের লড়তে না দেওয়ার এই ঘটনা সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়ারই নামান্তর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে খুলনা ও গোপালগঞ্জের মতো জেলাগুলোতে হিন্দু ভোটাররা যেখানে জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক, সেখানে গোবিন্দচন্দ্রের মতো নেতার মনোনয়ন বাতিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।