ভোটার তালিকা সংশোধন না কি ‘প্রহসন’? কমিশনকে ৪ পাতার কড়া চিঠি মমতার, নাম কাটা নিয়ে বড় আশঙ্কাপ্রকাশ!

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) নিয়ে এবার রণংদেহি মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ৪ পাতার এক দীর্ঘ ও কড়া চিঠি পাঠালেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যা চলছে তা আসলে একটি ‘প্রহসন’ এবং এর ফলে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভারতীয় নাগরিক তাঁদের ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ! স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে অত্যন্ত গুরুতর একটি অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। জেলা স্তরের আধিকারিকদের কাছে বহু নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে স্রেফ হোয়াটসঅ্যাপ বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই গোপনীয়তা? কেন কোনো সংবিধিবদ্ধ নির্দেশ জারি না করে অনানুষ্ঠানিক বার্তা পাঠানো হচ্ছে?
আইটি সিস্টেমের কারচুপি ও ‘ব্যাক-এন্ড’ আতঙ্ক
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কমিশনের ত্রুটিপূর্ণ আইটি সিস্টেম ব্যবহার করে আড়াল থেকে বা ‘ব্যাক-এন্ড’ থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এই বিষয়ে স্থানীয় ‘ইলেক্টরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ (ERO)-রাও অন্ধকারে থাকছেন। মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, এর ফলে বহু যোগ্য নাগরিকের নাম তালিকা থেকে গায়েব হয়ে যেতে পারে।
শুনানির নামে হয়রানির অভিযোগ
ভোটারদের শুনানিতে ডাকা নিয়ে কমিশনের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন:
-
কেন ডাকা হচ্ছে তা না জানিয়েই ভোটারদের সমন পাঠানো হচ্ছে।
-
অসুস্থ ও প্রবীণ নাগরিকদেরও ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে যাতায়াত করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
-
শুনানিতে নথি জমা নিলেও কোনো প্রাপ্তিস্বীকার বা ‘রিসিপ্ট’ দেওয়া হচ্ছে না।
-
বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) শুনানির সময় থাকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বিহার বনাম বাংলা: দ্বিচারিতার অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিহারে যে ‘ফ্যামিলি রেজিস্টার’ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রাহ্য হয়েছিল, বাংলায় তা হঠাৎ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাজ্য সরকারের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্রকেও গুরুত্ব দিচ্ছে না কমিশন। পরিযায়ী শ্রমিকদের সশরীরে হাজিরার কড়াকড়িকে তিনি ‘অমানবিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ ও খামখেয়ালি প্রক্রিয়া বন্ধ না করলে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত হবে। ইতিপূর্বেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল প্রতিনিধি দল দিল্লিতে দরবার করার পর এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপ বিষয়টিকে অন্য মাত্রা দিল।