টি-৯০ ‘ভীষ্ম’-এর ভোলবদল! ঘাতক ড্রোন রুখতে ভারতীয় ট্যাঙ্কে আসছে বিশেষ কবচ।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান শক্তি টি-৯০ ‘ভীষ্ম’ ট্যাঙ্কগুলি এবার একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের উপযোগী হয়ে উঠতে চলেছে। সীমান্তে চিন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় এই ট্যাঙ্কগুলিকে আরও মারাত্মক ও ‘স্মার্ট’ করে তুলতে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে কেন্দ্র। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ১০০০-এরও বেশি ট্যাঙ্কের ইঞ্জিন, সেন্সর এবং বর্ম বা আর্মার সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হবে।
কেন এই আধুনিকীকরণ? পুরনো টি-৯০ ট্যাঙ্কগুলির ইলেকট্রনিক সিস্টেম ডিজিটাল যুদ্ধের যুগে পিছিয়ে পড়ছিল। বিশেষ করে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ঘাতক ড্রোন এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল এখন বড় হুমকি। পুরনো মডেলে এই ড্রোন হামলা রোখার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল না। এছাড়া নতুন সুরক্ষাকবচ লাগানোর ফলে ট্যাঙ্কের ওজন বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন আরও শক্তিশালী ইঞ্জিনের।
কী কী বদল আসছে? ১. দেশীয় থার্মাল সাইট: বিদেশি সেন্সরের বদলে এবার বসবে দেশীয় ‘থার্মাল ইমেজিং’ (TI) সাইট। এর ফলে ঘন কুয়াশা বা ঘুটঘুটে অন্ধকারেও ৫ কিমি দূরের শত্রুকে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা যাবে। ২. অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (APS): এটি এই আপগ্রেডের সবচেয়ে বড় চমক। ট্যাঙ্কের দিকে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে এলে এই রাডার চালিত ব্যবস্থা মাঝপথেই তাকে ধ্বংস করে দেবে। ৩. ইঞ্জিন ও গতি: পাহাড়ের উচ্চতায় দ্রুত চলাচলের জন্য ইঞ্জিনের হর্সপাওয়ার বাড়ানো হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিলের (DAC) পরবর্তী বৈঠকে এই প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানে জোর দিয়ে এই আধুনিকীকরণে সিংহভাগ যন্ত্রাংশই হবে দেশীয়। পর্যায়ক্রমে কয়েক হাজার ট্যাঙ্ক আপগ্রেড করা হবে, যা আগামী কয়েক দশক ভারতীয় সেনার সাঁজোয়া শক্তিকে অপরাজেয় রাখবে।