“মুখ্যমন্ত্রীকে ড্রেনে ফেলে দেব না, তবে…” মন্দিরতলায় সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের মঞ্চ থেকে মমতা-কে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর!

রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে হাওড়ার মন্দিরতলায় আজ এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। মাসে ৩০ দিনের কাজ এবং ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরির স্থায়ীকরণের দাবিতে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখালেন সিভিল ডিফেন্স বা নাগরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মীরা। আর সেই আন্দোলনের আঁচ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন।
এদিন মন্দিরতলায় সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের দিয়ে কাজ করানো হলেও স্থায়ীকরণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে মাসে মাত্র কয়েকদিনের কাজ পাওয়ায় আর্থিক অনটনে ভুগছেন হাজার হাজার কর্মী।
আন্দোলনের এই উত্তপ্ত আবহে সেখানে উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মঞ্চে উঠতেই বিক্ষোভের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভাষণে বলেন, “এই সরকার শুধু ভাঁওতা দিতে জানে। সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, আর তাঁদের আজ রাস্তায় বসে কাঁদতে হচ্ছে।” সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আপনার দিন ঘনিয়ে এসেছে। এই কর্মীদের চোখের জল আপনাকে শান্তিতে থাকতে দেবে না।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, কর্মীদের এই ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে এবং নবান্ন ঘেরাও করতেও পিছপা হবে না।
বিরোধী দলনেতা এদিন রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে বলেন যে, পুলিশ দিয়ে এই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করলে ফল ভালো হবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা বিপদের বন্ধু, অথচ সরকার তাঁদের সাথেই বেইমানি করছে। তাঁর এই কড়া হুঁশিয়ারির পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, অবিলম্বে তাঁদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে এবং ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরির নিরাপত্তা দিতে হবে। আজকের এই বিক্ষোভ ও শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি হাওড়া তো বটেই, গোটা রাজ্যের রাজনীতির পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, এই আন্দোলনের চাপে নবান্ন কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয় কি না।