কতদূর পড়াশোনা করেছেন হুমায়ুন কবীর? বিতর্কের মাঝে সামনে এল মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা

বাংলার রাজনীতিতে ‘কালারফুল’ চরিত্রের অভাব নেই, তবে গত কয়েক মাসে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে, তিনি হলেন মুর্শিদাবাদের দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর। কখনও কংগ্রেস, কখনও বিজেপি, আবার কখনও তৃণমূল— তাঁর রাজনৈতিক রঙ বারবার বদলেছে। বর্তমানে তিনি নিজের নবগঠিত দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র চেয়ারম্যান। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, এই দাপুটে নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক কতদূর?

কলেজের গণ্ডি কি পেরিয়েছেন হুমায়ুন? দীর্ঘদিন রাজনীতির অলিন্দে থাকলেও পড়াশোনার দৌড়ে খুব একটা এগোতে পারেননি হুমায়ুন কবীর। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাশ। ২০১৩ সালে ‘ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর ওপেন স্কুল অব মহারাষ্ট্র’ থেকে তিনি দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অর্থাৎ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা থাকলেও পুঁথিগত শিক্ষায় কলেজের গণ্ডি পেরোননি তিনি।

আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও বিতর্কিত মসজিদ হুমায়ুন কবীর প্রায়ই দাবি করেন, রাজনীতির জন্য তাঁকে টাকার ওপর নির্ভর করতে হয় না। ছোটবেলা থেকেই তিনি ব্যবসার সাথে যুক্ত। পেশায় একজন বড় কনট্রাক্টর হুমায়ুনের দাবি, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নিজস্ব ব্যবসা থেকেই পরিবারের রোজগার হয়। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদের শিলান্যাস করে ফের খবরের শিরোনামে এসেছেন তিনি। জানা গেছে, এই প্রকল্পের জন্য তাঁর কাছে কোটি কোটি টাকার অনুদান এসেছে এবং বর্তমানে কাজ চলছে জোরকদমে।

রাজনৈতিক ডিগবাজি ও প্রভাব একসময় অধীর চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হুমায়ুন কবীরের মুর্শিদাবাদের বাড়িতে পা রেখেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বও। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং মন্ত্রীও হন। এমনকি নির্দল হিসেবে লড়াই করেও তৃণমূলের মতো শক্তিশালী দলকে বেগ দেওয়ার নজির রয়েছে তাঁর। তবে তৃণমূলের সাথে সাম্প্রতিক মতভেদের পর তিনি নিজের দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেছেন। রাজনীতির কারবারিদের মতে, মুর্শিদাবাদের ভোটব্যাঙ্কে হুমায়ুনের প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার, নতুন দলের হাত ধরে ২০২৬-এর লড়াইয়ে তিনি কতটা ছাপ ফেলতে পারেন।