“আমি আসবই, কথা দিচ্ছি!” কুয়াশায় মাঝপথ থেকে ফিরল কপ্টার, অডিও বার্তায় নদীয়াকে কী কথা দিলেন মোদী?

নদীয়ার তাহেরপুরে আজ ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা জনসভা। সকাল থেকে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা উপেক্ষা করে মাঠে ভিড় জমিয়েছিলেন আট থেকে আশি। কিন্তু প্রকৃতির প্রতিকূলতায় শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গ হলো সমর্থকদের। ঘন কুয়াশার কারণে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার তাহেরপুরের হেলিপ্যাডে নামতে পারল না। নিরাপত্তার খাতিরে কপ্টারটি মাঝপথ থেকেই কলকাতায় ফিরে যায়।

হতাশ জনতা ও প্রধানমন্ত্রীর অডিও বার্তা প্রিয় নেতাকে একঝলক দেখতে না পেয়ে যখন জনসভাস্থলে কান্নার রোল ওঠে, ঠিক তখনই বেজে ওঠে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠস্বর। সরাসরি দিল্লি থেকে অডিও বার্তায় সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন ভাষণ দেন মোদী। তিনি বলেন:

“আমি আপনাদের মধ্যে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম, আপনাদের আশীর্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হলো না। আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। খুব শীঘ্রই আমি আবার আপনাদের মাঝে আসব।”

বিজেপি সরকার গড়ার ডাক: মোদীর ৩টি বড় যুক্তি অডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী কেন বঙ্গে বিজেপির সরকার গড়ার আবেদন জানালেন, তার প্রধান কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে:

অনুপ্রবেশ ও নাগরিকত্ব: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে বাংলার সীমান্ত ও সংস্কৃতি রক্ষা করতে একমাত্র বিজেপিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উন্নয়ন ও তোষণ: রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘তোষণ রাজনীতি’র অভিযোগ তুলে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রয়োজন।

নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান: তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ ফেরাতে একবার বিজেপির সরকারকে সুযোগ দেওয়ার জন্য হাতজোড় করে আবেদন জানান তিনি।

শহিদ কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা এদিন ভাষণের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ভারাক্রান্ত গলায় স্মরণ করেন সেই চার বিজেপি কর্মীকে, যাঁরা আজ সকালে সভায় আসার পথে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, তাঁদের এই আত্মবলিদান বৃথা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিতি না থাকলেও তাঁর এই অডিও বার্তা তাহেরপুরের হতাশ জনতার মনে নতুন করে অক্সিজেন জুগিয়েছে। সভা শেষে সমর্থকদের মনে একটাই আশা— ‘মোদী আসবেনই’।