জন্মের সময় ছিল না মুখ, সমাজ বলেছিল ‘বাঁচবে না’! আজ ভারতের ৭ ফুটের বাস্কেটবল সম্রাট পুনম চতুর্বেদী!

উচ্চতা পাক্কা ৭ ফুট। বাস্কেটবল কোর্টে তিনি নামলে মনে হয় রূপকথার কোনো গ্যালিভার লিলিপুটদের ভিড়ে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি পুনম চতুর্বেদী। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে জন্ম হলেও বর্তমানে কলকাতার বেহালার বাসিন্দা এবং পূর্ব রেলের গর্ব। সম্প্রতি শহর কলকাতায় আয়োজিত রাজ্য বাস্কেটবলে রাখী সংঘকে হারিয়ে পূর্ব রেলকে চ্যাম্পিয়ন করার নেপথ্যে প্রধান কারিগর ছিলেন এই দীর্ঘদেহী কন্যাই।
মৃত্যুকে জয় করে ফেরা এক লড়াই: পুনমের আজকের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে এক যন্ত্রণাময় অতীত। জন্মের সময় শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এতটাই বেশি ছিল যে, তাঁর মুখের আকৃতি ছিল অস্পষ্ট। তিন-তিনবার জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে তাঁকে। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়রা— সকলেই নিদান দিয়েছিলেন, “এই মেয়ে তো বাঁচবে না, মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই।” সেই সময় পুনমের মা তাঁকে কেবল দুধ খাইয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আজ সেই ‘ব্রাত্য’ মেয়েটিই ভারতীয় বাস্কেটবল সার্কিটের সবচেয়ে লম্বা এবং প্রভাবশালী তারকা।
কোর্টের বিস্ময় ‘পুনম চতুর্বেদী’: পূর্ব রেলের হয়ে খেলার সময় পুনম যখন বাস্কেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ান, তখন উচ্চতায় তাঁর নাগাল পাওয়া প্রতিপক্ষের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
শক্তির খেলা: প্রতিপক্ষ তাঁকে শারীরিকভাবে আটকানোর চেষ্টা করলে কিছুটা বিরক্ত হন তিনি। তবে সতীর্থরা তাঁর হাতে বল পৌঁছে দিয়ে ঝুড়ি পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন।
বংশগত উচ্চতা: পুনমের বাবা পুলিশে কর্মরত। তাঁর পরিবারে দাদা-ভাই সকলেই দীর্ঘদেহী। বাবার অনুপ্রেরণাতেই বাস্কেটবলকে জীবনের লক্ষ্য করে তুলেছেন তিনি।
লক্ষ্য এবার জাতীয় দল: এনবিএ (NBA) খেলার স্বপ্ন নয়, বরং পুনমের লক্ষ্য খুব সাধারণ কিন্তু দৃঢ়। তিনি চান ভারতীয় জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে। গোড়ালির চোট কাটিয়ে সম্প্রতি তিনি কোর্টে ফিরেছেন। তাঁর কোচ সত্যব্রত নায়েক জানিয়েছেন, পুনমকে এখন আরও শক্তিশালী করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কোচের কথায়, “পুনম একটু আদর-আদর ভাব আর ভালোবাসা পেতে পছন্দ করে। ওকে ঠিকমতো আগলে রাখলে ও নিজের সেরাটা নিঙড়ে দেয়।”
সমাজের বাঁকা কথা আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুনম আজ কোটি কোটি মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।