বাংলাদেশে পৈশাচিকতা! জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে উল্লাস মৌলবাদীদের, কলকাতায় বসে তীব্র ক্ষোভ ইসকনের!

ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলায় যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা এবার মানবিকতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেল। উন্মত্ত জনতার হাতে একজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো পৈশাচিক অভিযোগ সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এই হাড়হিম করা ঘটনার ভিডিওগ্রাফি ও মৌলবাদীদের উল্লাসের দৃশ্য দেখে এবার সরব হলেন কলকাতার ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস।

ইসকনের কড়া প্রতিক্রিয়া: বাংলাদেশের বর্তমান অরাজকতা এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর ক্রমাগত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাধারমণ দাস। তিনি বলেন:

“একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এমন মধ্যযুগীয় বর্বরতা ভাবা যায় না। একজনের গায়ে আগুন দিয়ে বাকিরা যেভাবে উল্লাস করছে, তা মানব সভ্যতার জন্য কলঙ্ক। অন্য ধর্মে বিশ্বাসীদের ওপর এই পরিকল্পিত আক্রমণ অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।”

ভিডিও ঘিরে বিতর্ক ও শিউরে ওঠা তথ্য: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া (সত্যতা যাচাই করেনি DailyHunt) একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে— এক ব্যক্তিকে আগুনের লেলিহান শিখায় ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং একদল উন্মত্ত জনতা স্লোগান দিচ্ছে।

হিংসার গ্রাফ: হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সংখ্যালঘুদের বাড়ি, মন্দির এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

সরকারের কাছে আর্জি: রাধারমণ দাস আশাপ্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হাত গুটিয়ে বসে না থেকে এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোরতম ব্যবস্থা নেবে।

অস্থিতিশীল ওপার বাংলা: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের প্রশাসন শান্তি ফেরানোর কথা বললেও, বারবার এমন নারকীয় ঘটনা প্রমাণ করছে যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতেও উদ্বেগ বাড়ছে।

মানবতার এই অবক্ষয় এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের দাপট আটকাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো কবে সক্রিয় হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।