সীমান্তে এবার ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ড্রোনের দাপট! ইজরায়েল-আমেরিকা নয়, দেশীয় প্রযুক্তিতেই কাঁপবে শত্রু শিবির!

আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে এখন কামানের থেকেও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে ড্রোন। ইউক্রেন বা পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন প্রযুক্তিতে যে দেশ এগিয়ে, তারাই যুদ্ধের রাশ ধরে রাখছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ মিশনকে সফল করতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এবার বিদেশ থেকে চড়া দামে ড্রোন কেনার পরিবর্তে দেশের বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি স্টার্টআপদের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করবে সেনা।

চুক্তির নেপথ্যে বড় পরিকল্পনা: ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্প্রতি দেশীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো:

শত্রুকে যোগ্য জবাব: শত্রুপক্ষ বর্তমানে সস্তা ও ছোট ড্রোনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। ভারতও এবার এমন ‘স্মার্ট’ ড্রোন তৈরি করবে যা শত্রুকে তাদের ভাষায় জবাব দেবে।

স্টার্টআপদের সুযোগ: এই চুক্তির ফলে দেশের ছোট ছোট ডিফেন্স স্টার্টআপগুলি সরাসরি সেনাবাহিনীর সাথে কাজ করার এবং আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সুযোগ পাবে।

সেনাবাহিনীর বহরে কোন কোন ‘যোদ্ধা’ ড্রোন আসছে? এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত এমন কিছু ড্রোন পাবে যা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করতে সক্ষম:

লজিস্টিক ড্রোন (Logistics Drones): সিয়াচেনের মতো দুর্গম হিমাঙ্ক বা রাজস্থানের তপ্ত মরুভূমিতে সৈন্যদের কাছে খাবার, ওষুধ এবং গোলাবারুদ পৌঁছে দেবে এই ড্রোন।

কামিকাজে ড্রোন (Kamikaze Drones): এগুলি আসলে উড়ন্ত ক্ষেপণাস্ত্র। শত্রুর লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে সজোরে আছড়ে পড়ে মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটাবে এই ড্রোন।

নজরদারি ড্রোন: সীমান্তের ওপারে শত্রুর গতিবিধির লাইভ ফুটেজ তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে সক্ষম হবে।

কেন এই চুক্তি ভারতের জন্য গেম-চেঞ্জার? ১. ডেটা নিরাপত্তা: বিদেশি ড্রোন হ্যাক হওয়ার ভয় থাকে, কিন্তু দেশীয় ড্রোনের তথ্য ও কন্ট্রোল ভারতের হাতেই সুরক্ষিত থাকবে। ২. অর্থ সাশ্রয়: ইজরায়েল বা আমেরিকার থেকে ড্রোন কিনতে বিপুল বিদেশি মুদ্রা ব্যয় হয়। এখন সেই টাকা দেশের শিল্প ও অর্থনীতির উন্নতিতে খরচ হবে। ৩. রপ্তানির সুযোগ: এই প্রকল্পের সাফল্যে ভারত বিশ্বের ড্রোন বিক্রিকারী দেশগুলোর প্রথম সারিতে উঠে আসবে।

সীমান্ত সুরক্ষা থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা— ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই নয়া চাল ভবিষ্যতে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।