বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থী শক্তির দাপট! সংবাদপত্র দপ্তরে আগুন, সংখ্যালঘুদের আর্তনাদ; কী করছেন শেখ হাসিনা?

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ঢাকা-সহ একাধিক জেলা। এই চরম নৈরাজ্যের আবহে এবার মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মহম্মদ এ আরাফাত। তাঁর দাবি, বর্তমানে ভারতে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের এই পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

হাসিনার নজর ও ইউনুসের ওপর তোপ: ‘নিউজ ১৮’ ও ‘দ্য প্রিন্ট’-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাফাত সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন ড. মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর। তিনি বলেন:

“শেখ হাসিনা প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছেন বাংলাদেশে কী ঘটছে। তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ড. ইউনুস অগস্ট মাস থেকে মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করছেন। প্রকৃত ন্যায়বিচার দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে মৃত্যুকে ব্যবহার করছে এই সরকার।”

সংবাদপত্রের দপ্তরে আগুন ও পাকিস্তানপন্থী শক্তির উত্থান: গত রাতে বাংলাদেশের দুটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম, ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’-এর অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে ক্ষিপ্ত জনতা। আরাফাতের মতে, পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর যে যারা আওয়ামি লিগের সমালোচক ছিল, এখন তারাও রেহাই পাচ্ছে না। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে বর্তমানে পাকিস্তানপন্থী উগ্রবাদী উপাদানগুলি প্রবলভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিপন্ন সংখ্যালঘু ও গণতন্ত্র: আরাফাত তাঁর সাক্ষাৎকারে আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো নিরাপদ স্থান নেই। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং জনতার হিংসা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে ভারত-বিরোধী ও চরমপন্থী উন্মাদনা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।