বিরোধীদের চিৎকার থামিয়েই পাশ হল ‘জিরামজি’ বিল! মনরেগা অতীত, দিল্লিতে রাতভর সংসদ চত্বরে ধর্নায় তৃণমূল!

বিরোধীদের প্রবল বাধা ও গগনভেদী স্লোগানকে কার্যত উপেক্ষা করেই গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের খোল নলচে বদলে দিল মোদী সরকার। বৃহস্পতিবার লোকসভা ও রাজ্যসভা— সংসদের উভয় কক্ষেই পাশ হয়ে গেল বিতর্কিত ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন’ বা ‘জিরামজি’ (JIRAMJI) বিল। এই বিল পাশের সঙ্গে সঙ্গেই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে পাকাপাকিভাবে বাদ পড়ল মহাত্মা গান্ধীর নাম।

দাপটের সঙ্গে বিল পাশ: সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিরোধীরা বিক্ষোভ করলেও বিল পাশ আটকানো যাবে না। বৃহস্পতিবার লোকসভায় ঠিক তেমনটাই ঘটল। বিরোধীদের তুমুল হই-হট্টগোলের মধ্যেই স্পিকার ওম বিরলা ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশ করান। এরপর তড়িঘড়ি সেটি রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে যায়। কাজ মিটতেই অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার।

সংসদ চত্বরে রাতভর নাটক: শীতকালীন অধিবেশনের শেষলগ্নে কেন্দ্রের এই ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংসদ ভবনের বাইরে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে রাতভর বিক্ষোভ ও অবস্থান চালান। তাঁদের অভিযোগ, কোনো আলোচনা ছাড়াই গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই বিল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেন এই বিক্ষোভ?

মনরেগার বিলুপ্তি: বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ, মহাত্মা গান্ধীর নাম প্রকল্প থেকে সরিয়ে দিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ: তৃণমূল-সহ আঞ্চলিক দলগুলির দাবি, নতুন এই ‘জিরামজি’ বিলের মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চাইছে দিল্লি, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর বিরোধী।

টাকা বকেয়া: বাংলা-সহ একাধিক রাজ্যের ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা না মিটিয়ে নতুন নাম দেওয়ার হিড়িক নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদরা।

সরকারের যুক্তি: অন্যদিকে কেন্দ্রের দাবি, এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ রোজগার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এটি একটি বড় পদক্ষেপ বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।

দিল্লির কনকনে ঠান্ডাতেও সংসদের বাইরে তৃণমূল সাংসদদের এই ধর্না আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় আন্দোলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।