হাসিনার দেশত্যাগের পর মালদহে আশ্রয়! নেই SIR-এ নাম, মেলেনি CAA-ও; কোথায় যাবেন এই বৃদ্ধ?

ওপার বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আর তার রেশ ধরে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা— এই ছবি এখন সীমান্ত জেলা মালদহের অনেক প্রান্তেই দেখা যাচ্ছে। এমনই এক পরিস্থিতির শিকার এক বৃদ্ধ এবং তাঁর পরিবার। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে আওয়ামি লিগ সমর্থকদের ওপর যে হামলা ও হুমকির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তারই ভয়ে নিজের বসতভিটা ছেড়ে এপার বাংলায় চলে এসেছেন তাঁরা। কিন্তু এখানে এসেও স্বস্তি নেই। সামনে এখন নাগরিকত্বের পাহাড়প্রমাণ জটিলতা।

আওয়ামি লিগ করার ‘অপরাধ’? মালদহে আশ্রয় নেওয়া ওই বৃদ্ধের দাবি, বাংলাদেশে তাঁরা শেখ হাসিনা তথা আওয়ামি লিগের কট্টর সমর্থক ছিলেন। গত ৫ আগস্ট হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই তাঁদের ওপর নেমে আসে চরম অত্যাচার ও হুমকির পাহাড়। ভিটেমাটি আগলে রাখার চেষ্টা করলেও প্রাণ বাঁচাতে শেষমেশ স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এপার বাংলায় চলে আসতে বাধ্য হন তিনি।

SIR ও CAA-র সাঁড়াশি চাপে বৃদ্ধ: ভারতে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ পরিমার্জন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করায় স্বাভাবিকভাবেই এই বৃদ্ধের নাম তালিকায় নেই। অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকারের সিএএ (CAA) আইনে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যে সময়সীমা (৩১ ডিসেম্বর ২০১৪) দেওয়া রয়েছে, তা এই পরিবারের জন্য প্রযোজ্য নয়। ফলে আইনিভাবে তাঁরা বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

‘যেখানেই যাই, থাকব এখানেই’ নাগরিকত্ব বা ভোটার তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধের গলায় ঝরে পড়ছে এক অদ্ভুত জেদ। তাঁর কথায়,

“বাংলাদেশে আমাদের আর থাকার উপায় নেই। সব হারিয়ে এখানে এসেছি। এসআইআর-এ নাম থাকুক বা না থাকুক, আমি এখানেই থাকব। মরতে হলে এখানেই মরব।”

মানবিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক: মালদহ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বর্তমানে এই বৃদ্ধের মতো বহু পরিবারই এমন সংকটের মুখে। একদিকে অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া নজরদারি, অন্যদিকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আশায় আসা মানুষদের মানবিক দাবি— সব মিলিয়ে উত্তপ্ত মালদহ। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, হিন্দুদের ক্ষেত্রে সিএএ রক্ষাকবচ হতে পারে, কিন্তু নতুন করে আসা মানুষদের নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, বিজেপি সিএএ-র নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

আইনি প্যাঁচ আর রাজনৈতিক তরজার মাঝে এই বৃদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে। আশ্রয় জুটলেও নাগরিকত্বের স্থায়ী সমাধান মিলবে কি? উত্তর জানা নেই কারও।