SIR আতঙ্ক বনাম মোদীর আশ্বাস! শনিবার নদিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর মেগা জনসভা, ভোট-বক্স লক্ষ্য করে নয়া চাল বিজেপির?

বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃষ্ণনগর সফরের ঠিক পরেই এবার নদিয়া জেলাকে পাখির চোখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামীকাল, শনিবার নদিয়ার তাহেরপুরে জোড়া কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসছেন তিনি। একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠান এবং অন্যটি হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক জনসভা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে গোটা নদিয়া জেলায় সাজ সাজ রব।
তাহেরপুরে মোদীর সফরসূচি ও মেগা প্রস্তুতি শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে বেলা ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাঁর তাহেরপুরের হেলিপ্যাডে নামার কথা।
প্রশাসনিক উপহার: প্রায় ৩,২০০ কোটি টাকার জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের কৃষ্ণনগর-বড়জাগুলি অংশের ৪ লেনের সম্প্রসারণও রয়েছে।
রাজনৈতিক হুঙ্কার: তাহেরপুরের নেতাজি পার্ক ময়দান থেকে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। ২০২৬-এর আগে নদিয়ার এই সভা থেকেই মোদী বড় কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেবেন বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোনো খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। শুক্রবার থেকেই তাহেরপুর থানার স্টেডিয়াম মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাডের ট্রায়াল রান শুরু হয়েছে। এসপিজি (SPG) ও রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী এলাকাটি কার্যত দুর্ভেদ্য করে তুলেছে। ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চলছে তল্লাশি। এমনকি নদীপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মতুয়া ভোট ও SIR ফ্যাক্টর রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদীর এই সফরের নেপথ্যে রয়েছে ‘মতুয়া-অঙ্ক’। সম্প্রতি ভোটার তালিকায় বিশেষ পরিমার্জন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায় এক ধরণের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে বিঁধেছেন। এই পরিস্থিতিতে নমঃশূদ্র ও মতুয়াদের আশ্বস্ত করতে মোদী সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো বড় ঘোষণা করেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
নদিয়ার এই সভা যে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ‘ওয়ার্ম-আপ’, তা একপ্রকার স্পষ্ট। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বিজেপির পালে কতটা হাওয়া টানে।