দিল্লি হাইকোর্টে বড় জয় মহুয়া মৈত্রের! লোকপালের নির্দেশে স্থগিতাদেশ, আপাতত চার্জশিট দিচ্ছে না সিবিআই

‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ (Cash-for-Query) মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়ার জন্য সিবিআই-কে দেওয়া লোকপালের নির্দেশ শুক্রবার খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথ শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, লোকপাল এই নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় ভুল করেছে, তাই গোটা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: এদিন দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায় যে, ভারতের লোকপাল এই মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের বিধানগুলি বুঝতে ভুল করেছেন। এর আগে গত ১২ নভেম্বর লোকপাল নির্দেশ দিয়েছিল যে, ৪ সপ্তাহের মধ্যে মহুয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিতে হবে সিবিআই-কে। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করেছিলেন মহুয়ার আইনজীবী নিধেশ গুপ্ত। আদালত এক সপ্তাহের মধ্যে লোকপালকে সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে দামী উপহার ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি সংসদে গৌতম আদানি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি নিজের সংসদীয় লগইন আইডিও শিল্পপতিকে ব্যবহারের জন্য দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের অভিযোগের ভিত্তিতে লোকপাল সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সবুজ সংকেত দিয়েছিল লোকপাল।

আপাতত স্বস্তি: সিবিআই-এর চার্জশিট পেশের ওপর স্থগিতাদেশ পাওয়ায় মহুয়ার সাংসদ পদ এবং রাজনৈতিক কেরিয়ারে সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরল। সিবিআই-এর দাবি ছিল, মহুয়ার করা ৬১টি প্রশ্নের মধ্যে অনেকগুলোই হীরানন্দানি নিজে পোস্ট করেছিলেন। তবে হাইকোর্টের এদিনের রায়ের ফলে সেই অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া আপাতত থমকে গেল।

পরবর্তী ধাপ: আদালতের নির্দেশে লোকপালকে এখন পুনরায় সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে এক মাসের মধ্যে নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। ততদিন পর্যন্ত সিবিআই মহুয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করতে পারবে না।