১৭০০ বছর পুরনো রক্ত হঠাৎ হয়ে গেল তরল! সেন্ট জানুয়ারিয়াসের ‘অলৌকিক’ ঘটনা ঘিরে শোরগোল ইতালিতে।

বিজ্ঞানের যুগেও কিছু রহস্য মানুষকে আজও স্তম্ভিত করে। ইতালির নেপলস শহরের ডুওমো ডি সান্তা মারিয়া আসুন্তা গির্জায় ঘটে গেল তেমনই এক অদ্ভুত ঘটনা। ৩০৫ খ্রিস্টাব্দে শহীদ হওয়া সাধু সেন্ট জানুয়ারিয়াসের শত বছরের পুরনো শুকনো রক্ত হঠাৎ করেই তরল হয়ে গেল। ভক্তদের কাছে এটি কেবল একটি ঘটনা নয়, বরং এক পবিত্র ‘অলৌকিক’ সংকেত।

রক্ত গলে যাওয়া কি শুভ লক্ষণ? স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সিল করা কাঁচের শিশিতে রাখা এই রক্ত যদি বিশেষ দিনে তরল হয়ে যায়, তবে তা শহরের জন্য শুভ বার্তা বয়ে আনে। নেপলসের আর্চবিশপ ডোমেনিকো বাত্তাগ্লিয়া জানান, এদিন সকাল ১০টা ০৫ মিনিট নাগাদ শিশির ভেতরে থাকা গাঢ় লাল পদার্থটি পুরোপুরি তরল হয়ে যায় এবং তাতে বুদবুদ দেখা দিতে শুরু করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গির্জায় ভিড় জমান হাজার হাজার পুণ্যার্থী।

বিপত্তির ইতিহাস ও লোকগাঁথা: ইতিহাস বলছে, এই রক্ত তরল না হওয়া মানেই কোনো বড় দুর্যোগের ইঙ্গিত। অতীতে দেখা গিয়েছে:

১৯৩৯: রক্ত তরল হয়নি, শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

১৯৮০: রক্ত শুকিয়ে ছিল, এর পরেই ঘটেছিল ভয়াবহ ইরপিনিয়া ভূমিকম্প।

২০২০: করোনা অতিমারির সময়ও রক্ত তরল হয়নি।

বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস: বিজ্ঞানীরা অবশ্য এই ‘অলৌকিক’ তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। তাঁদের মতে, শিশির ভেতরের মিশ্রণে এমন কোনো রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে যা নাড়াচাড়া করলে বা তাপমাত্রার প্রভাবে তরল হয়ে যায়। তবে ধর্মযাজক ও ভক্তদের দাবি, এটি নিছক কুসংস্কার নয়, বরং যীশু খ্রিস্টের আত্মত্যাগের এক জীবন্ত প্রতীক।

কে ছিলেন এই সেন্ট জানুয়ারিয়াস? লোককথা অনুযায়ী, এই সাধুকে তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ভালুকের খাঁচায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু হিংস্র পশুরাও তাঁকে স্পর্শ করেনি। পরে তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, সেই সময় থেকেই তাঁর সংগৃহীত রক্ত নেপলস শহরকে রক্ষা করে আসছে।

আগামী আট দিন এই শিশিটি ভক্তদের দর্শনের জন্য বাইরে রাখা হবে। এই শতাব্দী প্রাচীন রহস্যের সমাধান আজও অমীমাংসিত, কিন্তু নেপলসের মানুষের কাছে এটিই তাঁদের সবথেকে বড় বিশ্বাসের ভিত্তি।