বেলডাঙায় ‘বাবরি’ গড়তে মরিয়া হুমায়ুন কবীর! ট্রাস্টের জমির দলিলের ছবি এল সামনে, অনুদান ছাড়াল ৫ কোটি।

একদিকে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা, আর অন্যদিকে বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের বিশাল পরিকল্পনা— এই দুই সমান্তরাল লক্ষ্য নিয়ে ময়দানে নেমেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আগামী ২২ ডিসেম্বর নতুন দল ঘোষণার ঠিক আগেই প্রকাশ্যে এল তাঁর প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের জমির দলিলের এক্সক্লুসিভ তথ্য।
জমির পরিমাণ ও দাতাদের তালিকা: হুমায়ুন কবীর যে জায়গায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, সেই জমির পরিমাণ বর্তমানে ৬ শতক।
দানপত্র: শক্তিপুর থানার মিলকি গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা আহমেদ এই ৬ শতক জমি দান করেছেন।
ট্রাস্টের নথি: জমিটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’ ট্রাস্টের নামে।
অন্যান্য দাতা: গত ২ ডিসেম্বর সাদ্দাম হোসেন ও নূর মহম্মদ শেখ নামে আরও দুই ব্যক্তি এই ট্রাস্টের নামে জমি দান করেছেন, যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা। এই জমির পাশেই রয়েছে ৬০ ফুট চওড়া জাতীয় সড়ক।
অনুদান ও ৩০০ কোটির মহাপরিকল্পনা: হুমায়ুন কবীরের দাবি অনুযায়ী, বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য তিনি ৩০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। তাঁর দাবি:
জনসাধারণের অনুদান: কিউআর কোড ও নগদে এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ৫.৫ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে।
বিশাল প্রতিশ্রুতি: এক রহস্যময় ব্যক্তি তাঁকে মসজিদ গড়ার জন্য ৮০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পরিকাঠামো: এই প্রকল্পে শুধু মসজিদ নয়, একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও স্কুল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এক চিকিৎসক ইতিমধ্যেই ১ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।
রাজনৈতিক লক্ষ্য: আগামী ২২ তারিখ হুমায়ুন তাঁর নতুন দল ঘোষণা করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাবরি মসজিদ নির্মাণের এই আবেগঘন ইস্যুটিকে সামনে রেখে তিনি তাঁর নতুন দলের ভীত শক্ত করতে চাইছেন। তবে জমি ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি বা বড় অনুদানের উৎস নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানাবিধ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মুর্শিদাবাদের এই বাবরি মসজিদ নির্মাণ কি স্রেফ ধর্মীয় উদ্যোগ, নাকি হুমায়ুনের নতুন দলের সাফল্যের সিঁড়ি? উত্তর দেবে সময়।