“দিদির কথায় নতমস্তক!” হাতে চপ-মুড়ি আর সিঙাড়া নিয়ে রাজপথে এসএসসি চাকরিপ্রার্থীরা, অভিনব প্রতিবাদে কাঁপল কলকাতা।

হাতে ধরা আইবি বা এমএ-র ডিগ্রি নয়, বরং ঝুড়ি ভর্তি চপ, মুড়ি আর গরম সিঙাড়া! নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা এসএসসির (SSC) নতুন চাকরিপ্রার্থীরা বৃহস্পতিবার কলকাতার রাজপথে এক নজিরবিহীন ও বিদ্রুপাত্মক প্রতিবাদে সামিল হলেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা আর অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে তাঁদের এই ‘চপ-শিল্প’ বিক্ষোভ পথচারীদের নজর কেড়েছে।

“দিদির কথা শিরোধার্য”: বিক্ষোভের নেপথ্যে এক গভীর শ্লেষ লুকিয়ে রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। এক প্রার্থী বলেন, “দিদির (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কথায় নতমস্তক হয়েই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি চপ শিল্পের কথা বলেছিলেন, আমরা আজ হাতে-কলমে সেটাই করে দেখাচ্ছি।” তাঁদের দাবি, বছরের পর বছর পরীক্ষা দিয়েও নিয়োগের দেখা নেই, তাই নিজেদের হতাশা ও প্রশাসনের অবহেলা বোঝাতে তাঁরা রাজপথে নেমে চপ-মুড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

প্রতিবাদের বৈশিষ্ট্য:

সৃজনশীলতা: কোনো হিংসা বা ভাঙচুর নয়, বরং শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন প্রার্থীরা।

সামাজিক বার্তা: প্রার্থীদের মতে, এই প্রতিবাদ স্রেফ হাসির খোরাক নয়, বরং শিক্ষিত বেকারদের করুণ অবস্থার প্রতীক।

ভাইরাল ভিডিও: হাতে চপ-মুড়ির থালা নিয়ে হবু শিক্ষকদের এই ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে।

কেন এই ক্ষোভ? এসএসসির নতুন প্রার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে চাকরির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। পরীক্ষা হয়ে গেলেও আইনি জটিলতা আর প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতার জেরে ঝুলে রয়েছে কয়েক হাজার মেধার ভবিষ্যৎ। তাঁদের দাবি, সরকার যেন বুঝতে পারে যে একজন শিক্ষিত যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে চপ বিক্রি করা গর্বের নয়, বরং চূড়ান্ত অসহায়তার ফল।

কলকাতার এই জনবহুল রাজপথে আজ শুধু চপ-মুড়িই বিকোয়নি, বিকিয়েছে একরাশ দীর্ঘশ্বাস আর প্রতিবাদী চেতনা। প্রশাসন কি এবার মেধাবী তরুণ-তরুণীদের এই নীরব হাহাকার শুনতে পাবে? উত্তর খুঁজছে তিলোত্তমা।