“ইউনূসের কূটনীতি নেই, ভিক্ষা করছেন পাকিস্তানের কাছে!”, বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে মোদী-ভারতকে নিয়ে বড় বার্তা হাসিনার!

বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই প্রথম সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘লোকাল ১৮’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে নিজের মনের কথা উজাড় করে দিলেন তিনি।

ভারতই প্রকৃত বন্ধু, দিল্লির ধৈর্যের প্রশংসা: হাসিনা স্পষ্ট জানান, ভারত বাংলাদেশের চিরকালীন বিশ্বস্ত বন্ধু। বর্তমান অস্থিরতা সত্ত্বেও দুই দেশের মজবুত সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেই তাঁর বিশ্বাস। বর্তমান ডামাডোলের মধ্যে ভারত যে ধরনের ‘ধৈর্য’ দেখাচ্ছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তিনি বলেন, “ভারত এমন একজন নেতার জন্য অপেক্ষা করছে, যে প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে, চরমপন্থীদের নয়।”

ইউনূস ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তোপ: মুহাম্মদ ইউনূসের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসিনা কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান। ISI-র সক্রিয়তা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইউনূসের কোনো কূটনৈতিক দক্ষতা নেই, এমনকি দেশ চালানোর জনাদেশও নেই। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি এখন পাকিস্তানের কাছে ভিক্ষা করছেন।” তাঁর দাবি, ইউনূস এমন এক আঞ্চলিক খেলোয়াড়কে (পাকিস্তান) জড়িয়ে ধরছেন যাকে তিনি নিজেই ভালো করে বোঝেন না।

‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ: নিজের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা ও মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাসিনা বলেন, “অনির্বাচিত সরকারের ইশারায় চলা ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ এই সাজা দিয়েছে। আমরা আগেও সামরিক শাসন ও হত্যার চেষ্টা মোকাবিলা করেছি।” তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক। দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে বা ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ সমর্থকের কণ্ঠরোধ করা সম্ভব নয়।

শেষ কথা: হাসিনার দাবি, ইউনূস সরকারের ওপর থেকে মানুষ আস্থা হারাতে শুরু করেছে এবং তাঁর দলের সদস্যরা পদত্যাগ করছেন। আওয়ামী লীগ আইনি ও কূটনৈতিক পথেই লড়াই চালিয়ে যাবে যাতে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসে।