SIR-এর ম্যাজিক? রুমাল হয়ে গেল বিড়াল! সেলিমের নামের পাশে হিন্দু পদবি দেখে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

সুকুমার রায়ের ‘হযবরল’-কেও হার মানাল নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া। রাতারাতি বদলে গেল ধর্ম আর পদবি! খোদ সিপিআইএম (CPIM) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং তাঁর ছেলে আতিশ আজিজের নামের পাশে যুক্ত হলো ‘অবস্থি’ পদবি। সরকারি নথিতে এমন নজিরবিহীন বিভ্রাট সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে হাসির রোলের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক।

কীভাবে ঘটল এই কাণ্ড? ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গের নতুন খসড়া ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, মহম্মদ সেলিম এবং তাঁর ছেলে আতিশ আজিজ— দু’জনের পদবিই বদলে ‘অবস্থি’ হয়ে গিয়েছে। আতিশ আজিজের ভোটার তথ্যে তাঁর বাবার নাম লেখা হয়েছে ‘মহম্মদ সেলিম অবস্থি’। যা মূলত একটি হিন্দু ব্রাহ্মণ পদবি হিসেবে পরিচিত। একজন প্রবীণ মুসলিম নেতার নামের এই আমূল পরিবর্তন দেখে তাজ্জব রাজনৈতিক মহল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ আতিশের: এই তথ্য প্রথম প্রকাশ্যে আনেন সেলিমের ছেলে আতিশ আজিজ নিজেই। নিজের ভোটার কার্ডের তথ্যের স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি ফেসবুকে লেখেন, “মিডিয়া আর বিজেপি বলছিল SIR করে মোল্লাদের টাইট দেওয়া হবে। কিন্তু দেখছি নির্বাচন কমিশন আমাকে আর আমার বাবাকে ব্রাহ্মণ বানিয়ে দিল!” তাঁর এই টিপ্পনী মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

সেলিমের কড়া প্রতিক্রিয়া: ঘটনাটি জানতে পেরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “গোটা প্রক্রিয়াটি একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। সিইও (CEO) এবং সিইসি (CEC) মিলে কী করছেন? আমার মতো পরিচিত লোকের যদি এই হাল হয়, তবে সাধারণ মানুষের তথ্যের কী অবস্থা, তা সহজেই অনুমেয়।” তিনি অভিযোগ তোলেন, কমিশনের আধিকারিকদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই এবং এই প্রক্রিয়ায় বড়সড় গাফিলতি রয়েছে।

কমিশনের সাফাই: এই বিচিত্র ভুল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, এটি সম্ভবত ‘ডেটা এন্ট্রি’ করার সময়ের ভুল। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে এই ধরণের সমস্ত ভুল সংশোধন করে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই এসআইআর প্রক্রিয়ার পর রাজ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। যার মধ্যে ২৪ লক্ষ মৃত ও ১৯ লক্ষ স্থানান্তরিত ভোটার বলে দাবি কমিশনের। তবে সেলিমের মতো হেভিওয়েট নেতার পরিচয় বদলে যাওয়ায় এই খসড়া তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।