ভোটার তালিকায় মমতার ‘ভোট ব্যাংক’ সাফ? ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়তেই অমিত মালব্যের বিস্ফোরক পোস্ট!

রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক যুদ্ধের সাক্ষী থাকছে পশ্চিমবঙ্গ। খসড়া তালিকা থেকে এক ধাক্কায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়ার তথ্য সামনে আসতেই আসরে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে গত এক দশক ধরে ‘ভুয়া’ ও ‘অবৈধ’ ভোটারদের জোরেই ক্ষমতায় টিকে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস।অমিত মালব্যের বিস্ফোরক আক্রমণ:বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালকে তীব্র আক্রমণ করে লিখেছেন, এতকাল অনুপস্থিত, মৃত এবং ডুপ্লিকেট ভোটারদের নাম ব্যবহার করে তৃণমূল ভোট লুণ্ঠন করেছে। তাঁর দাবি, এই তালিকায় একটি বড় অংশই হলো অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা, যাদের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করত শাসক দল। মালব্যর হুঁশিয়ারি, “এবার জরাজীর্ণ ও ব্যর্থ মমতা শাসনের অবসান ঘটবে, কারণ জালিয়াতির পথ বন্ধ হচ্ছে।”পরিসংখ্যানের আড়ালে চাঞ্চল্যকর তথ্য:নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া তালিকা অনুযায়ী, এসআইআর-এর প্রথম পর্বে যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, তার বিন্যাস অত্যন্ত উদ্বেগজনক:২৪ লক্ষ ১৬ হাজার: ভোটারকে ‘মৃত’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার: ভোটার স্থায়ীভাবে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছেন।১২ লক্ষ ২০ হাজার: ভোটারকে ‘নিখোঁজ’ বা খুঁজে পাওয়া যায়নি।১ লক্ষ ৩৮ হাজার: ভোটার হলেন ‘ডুপ্লিকেট’ বা ভুয়া।বিজেপির দাবি, এখনও প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ নামের ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে এবং প্রায় ৩০ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটারের ওপর নজরদারি বাকি আছে।মমতার পাল্টা চ্যালেঞ্জ:মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রণংদেহী মেজাজে রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি ষড়যন্ত্র করে ভোটারদের নাম কাটছে। কালীঘাটের বৈঠকে তিনি ইতিমধ্যেই দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে একটিও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায় তা নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যেতে।লক্ষ্য ২০২৬ বিধানসভা:আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। এই তারিখেই স্পষ্ট হবে বাংলার প্রকৃত জনবিন্যাস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে এই বিপুল নাম বাদ যাওয়া আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে আমূল বদলে দিতে পারে।একনজরে এসআইআর-এর ক্যালেন্ডারধাপসময়সীমাপ্রথম পর্ব (চিহ্নিতকরণ)সম্পন্নদ্বিতীয় পর্ব (শুনানি ও আপত্তি)ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্তচূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬