সরকারি গণ্ডগোলে লঙ্কাকাণ্ড! ভুল করে পাওয়া ১০ হাজার টাকা খরচ করে বিপাকে পুরুষেরা, ‘ভোট ফেরতের’ আজব দাবি

সরকারি যান্ত্রিক গোলযোগে এক অদ্ভুত সংকটে পড়েছে বিহার প্রশাসন। মহিলাদের জন্য চালু হওয়া আর্থিক প্রকল্পের টাকা ভুলবশত ঢুকে গিয়েছিল পুরুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। উৎসবের মরশুমে সেই টাকা হাসিভিমুখে খরচও করে ফেলেছেন তাঁরা। কিন্তু এখন রাজ্য সরকার সেই টাকা ফেরত চাইতেই শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের পালটা দাবি— “টাকা নিলে আমাদের ভোটও ফেরত দিয়ে দিন!”
কী এই গোলমাল? বিহার নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে ১.৫৪ কোটি মহিলার জন্য একটি বিশেষ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। এই প্রকল্পে বছরে ১০ হাজার টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT) দেওয়ার কথা। কিন্তু তথ্য আপলোড করার সময় বড়সড় বিভ্রান্তি ঘটে। ফলে দ্বারভাঙার জালে ব্লক-সহ বেশ কিছু এলাকার পুরুষের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায় সেই মোটা অঙ্কের টাকা।
খরচ করে এখন মাথায় হাত দ্বারভাঙার বাসিন্দা বলরাম সাহানি একজন বিশেষভাবে সক্ষম দিনমজুর। তিনি জানান, ছটপুজো আর দিওয়ালির সময় টাকা পেয়ে ধার মেটানো আর সংসারের কাজে সব খরচ করে ফেলেছেন। একই অবস্থা নগেন্দ্র রামের। তাঁদের প্রশ্ন, “সরকার যদি ভুল করেই থাকে, তবে তিন মাস পর কেন ঘুম ভাঙল? এখন টাকা পাব কোথায়?”
“ভোট দিয়েছি, তাঁরা জিতেছে— এখন টাকা কেন দেব?” টাকা ফেরতের নোটিশ আসতেই বিহারের গ্রামগুলিতে অসন্তোষের আগুন জ্বলছে। প্রমীলা দেবী নামে এক মহিলার দাবি আরও চাঞ্চল্যকর। তিনি রাগে ফেটে পড়ে বলেন, “আমরা ভোট দিয়ে ওদের জিতিয়েছি। এখন টাকা ফেরত চাইলে আমাদের ভোটও ফেরত দিক!” অনেক গ্রামবাসীই দাবি করেছেন, ১০ হাজার টাকা তাঁরা উপহার হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: দ্বারভাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ১৪ জন পুরুষকে নোটিশ পাঠিয়ে টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। সাতটি গ্রামের বেশ কিছু মানুষ ভয়ে টাকা ফেরত দিলেও, বড় অংশই এখন প্রতিরোধের রাস্তায়।
ভুলের মাসুল কি গরিব মানুষকেই দিতে হবে? নাকি ভোটের ময়দানে জেতা সরকার কোনো মানবিক পথ খুঁজবে? এখন সেটাই দেখার।
একনজরে পুরো ঘটনা (Quick Facts)
প্রকল্প: মহিলাদের বার্ষিক ১০,০০০ টাকা সহায়তা।
ভুল: ১.৫৪ কোটি মহিলার বদলে বেশ কিছু পুরুষ টাকা পেয়েছেন।
এলাকা: বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা।
দাবি: টাকা খরচ হয়ে গেছে, ফেরত চাইলে ভোটও ফেরত চাই।