বন্ডি বিচে সন্ত্রাসী হামলা, ভারতীয় পাসপোর্টে সাজিদ আকরামের ফিলিপাইন সফর, উগ্র মতবাদ এবং IS যোগের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার তদন্তে আক্রমণকারী সাজিদ আকরাম ও তাঁর ছেলে নাভিদ আকরামের অতীত এবং কার্যকলাপ সম্পর্কে নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন এই বাবা-ছেলের আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং উগ্র মতাদর্শের বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান করছে। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট এটিকে ইসলামিক স্টেট (IS) দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
হায়দ্রাবাদের সংযোগ এবং পারিবারিক ফাটল
তদন্তে জানা গেছে, নিহত সাজিদ আকরাম শেষবার ২০২২ সালে হায়দ্রাবাদে গিয়েছিলেন। তাঁর কাছে এখনও ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে, যদিও তাঁর অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া দুই সন্তান (ছেলে নাভিদ এবং এক মেয়ে) অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের কারণে সাজিদের সঙ্গে তাঁর বর্ধিত পরিবারের সম্পর্ক বেশ কয়েক বছর আগেই ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সম্পর্কের ফাটল এতটাই গভীর ছিল যে সাজিদ ২০১৭ সালে তাঁর বাবার শেষকৃত্যেও যোগ দেননি।
ভারত ছাড়ার পর সাজিদ অস্ট্রেলিয়ায় ভেনেরা গ্রোসো নামে এক ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত মহিলাকে বিয়ে করেন এবং সেখানে স্থায়ী হন। আপাতদৃষ্টিতে পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও, তদন্তকারীদের ধারণা—তাঁদের মধ্যে একটি উগ্র মতাদর্শ তৈরি হচ্ছিল।
হামলার কৌশল ও ফিলিপাইন ভ্রমণ
রবিবার বন্ডি সৈকতে ইহুদি সম্প্রদায়ের হানুক্কা উদযাপনের সময় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যেখানে পনেরো জন নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় অভিযুক্ত বাবা সাজিদ আকরাম (৫০) সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান, আর ছেলে নাভিদ আকরাম (২৪) গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা ‘চরম বর্বরতার’ সাথে কাজ করেছিল।
হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি নাভিদের নামে নিবন্ধিত ছিল, যা পুলিশ জব্দ করেছে। গাড়ি থেকে ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক ডিভাইস (IED) এবং ইসলামিক স্টেটের সাথে সম্পর্কিত পতাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির এখন প্রধান নজর হামলার মাত্র এক মাস আগে বাবা-ছেলের ফিলিপাইন সফরের দিকে। ফিলিপাইন ইমিগ্রেশন ব্যুরো নিশ্চিত করেছে যে সাজিদ (ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে) এবং নাভিদ (অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করে) গত ১ নভেম্বর ফিলিপাইনে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২৮ নভেম্বর ফিরে আসেন। তাঁরা তাঁদের গন্তব্য হিসেবে মিন্দানাও অঞ্চলের দাভাও শহরের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যেখানে অতীতে জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল। যদিও ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ মনে করছে এই আক্রমণের মূল এখনও অজানা আন্তর্জাতিক চরমপন্থী নেটওয়ার্কের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে।