‘শোলে’-এর জলের ট্যাঙ্কেই রিল-রিয়েল প্রেম! নেশার ঘোরে হেমা মালিনীকে প্রপোজ করেন ধর্মেন্দ্র, গোপন কথা ফাঁস করলেন পরিচালক!

হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম ব্লকবাস্টার হিট ‘শোলে’ মুক্তির পর পেরিয়ে গিয়েছে দীর্ঘ ৫০ বছর। ধর্মেন্দ্র, অমিতাভ বচ্চন, হেমা মালিনী এবং জয়া বচ্চন অভিনীত এই ছবি নিয়ে আজও দর্শকদের উন্মাদনা একই রকম। সম্প্রতি, ছবির পরিচালক রমেশ সিপ্পি শ্যুটিং সেটের এক গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন— কীভাবে শ্যুটিং চলাকালীন জলের ট্যাঙ্কে বসেই হেমা মালিনীকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন ধর্মেন্দ্র।

হেমা মালিনী এবং ধর্মেন্দ্রর সম্পর্ক কখনোই সহজ ছিল না। বিবাহিত ধর্মেন্দ্রকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া হেমা মালিনীর জন্য ছিল এক কঠিন সিদ্ধান্ত। এদিকে, স্ত্রী ও চার সন্তান থাকা সত্ত্বেও ধর্মেন্দ্রর জীবনে হেমা এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। সেই প্রেমের সূত্রপাত হয়েছিল ‘শোলে’-এর সেটেই।

পরিচালক রমেশ সিপ্পি সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বলেন, “ধর্মেন্দ্র সেদিন ভালো মেজাজে ছিলেন। জলের ট্যাঙ্কে ওঠার আগে তিনি কয়েকটি পানীয়ও নিয়েছিলেন।” অর্থাৎ, ‘বীরু’ (ধর্মেন্দ্র) যে দৃশ্যে বাসন্তীকে (হেমা) জলের ট্যাঙ্কে উঠে প্রপোজ করেন, সেই দৃশ্যটিই রিল লাইফ এবং রিয়েল লাইফের প্রেমের একাকার হওয়ার সাক্ষী।

রমেশ আরও জানান, ধর্মেন্দ্র তাঁকে বলেছিলেন, “এটি কেবল অভিনয়, কিছুই হবে না।” তবে রমেশ তাঁকে বাধা দেননি। পরিচালক বলেন, “আমি তখন তাঁকে মুক্ত করে রেখেছিলাম, কারণ এটি সবার সামনে তাঁর আসল ভালবাসার স্বীকারোক্তি ছিল। যেহেতু এটি তাঁর সত্যিকারের ভালবাসার স্বীকারোক্তি ছিল, তাই তিনি তাঁর সর্বস্ব এতে দিয়েছিলেন।”

রমেশ সিপ্পি আরও বলেন, “ছবিতে যা ঘটছিল, বাস্তবেও সেটাই ঘটছিল। তাই ভালো লাগছিল। আমিও অনুভব করেছিলাম যে এটি ছবিটির জন্য ভালো ছিল, কারণ পর্দায় সত্যিকারের রোম্যান্স ফুটে ওঠে।” উল্লেখ্য, ধর্মেন্দ্র প্রথমে ‘গব্বর’ বা ‘ঠাকুর’-এর চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হেমাকে পেতে হলে তাঁকে ‘বীরু’র চরিত্র নিতে হবে, এই কথা রমেশ সিপ্পিই জানিয়েছিলেন।

১৯৫৪ সালে প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করার পর ধর্মেন্দ্র সাফল্যের চূড়ায় ওঠেন। সব বাধা পেরিয়ে ১৯৮০ সালে তিনি হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন। শোনা যায়, হেমাকে বিয়ে করার জন্য সেই সময় তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিমও হয়েছিলেন। যদিও হেমাকে বিয়ে করার পরেও তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর বা চার সন্তানকে ছেড়ে কখনোই হেমা মালিনীর সঙ্গে একসঙ্গে থাকেননি। হেমা ও ধর্মেন্দ্রর দুই মেয়ে— এষা ও অহনা দেওল।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01