নবোদ্বয় বিদ্যালয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় বড় জালিয়াতি! লোহাগড়িতে ‘ভুয়ো ছাত্র’দের অংশগ্রহণের ঘটনা, DC-র তদন্তের নির্দেশ

লোহারগড়ির পিএম শ্রী জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভুয়োভাবে একাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ পৌঁছনোর পর তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যে শিক্ষার্থীদের ভুয়োভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে তাদের কোনও তথ্য নেই। এর ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষও হতবাক।
অ্যাডমিট কার্ড বিতরণের সময়ই পর্দাফাঁস
জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভুয়ো শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি তখনই ফাঁস হয়, যখন অ্যাডমিট কার্ড বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বলা হয়েছিল, অ্যাডমিট কার্ডগুলি শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে। যখন স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকরা দেখেন যে, তাদের দেওয়া তালিকা এবং অ্যাডমিট কার্ডের শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়ের নয়, তখনই তারা বিস্মিত হন।
লিখিত অভিযোগ এবং তদন্তের নির্দেশ
এই ঘটনায় উৎক্রমিত প্রাথমিক বিদ্যালয় আরকোসা নয়া টোলির প্রধান শিক্ষক জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, উৎক্রমিত প্রাথমিক বিদ্যালয় আরকোসা নয়া টোলি এবং উৎক্রমিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গুড়ি ফুডকি টোলি কায়রো—এই দুটি বিদ্যালয়ে ভর্তির তথ্য দেখিয়ে মোট আট জন শিক্ষার্থী (প্রতি বিদ্যালয়ে চার জন) ভুয়োভাবে নবোদয় বিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় আবেদন করেছে এবং অংশ নিয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ামাত্র জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। ডিসি এই বিষয়ে জেলা শিক্ষা আধিকারিক দাস সুনন্দা চন্দ্রমৌলেশ্বরকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে যখন আটজন শিক্ষার্থীর নাম সামনে এসেছে, তখন গভীর তদন্তে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা আধিকারিক, দাস সুনন্দা চন্দ্রমৌলেশ্বর জানিয়েছেন, “এই বিষয়ে ডিসির কাছে অভিযোগ এসেছিল। যার পরে ডিসি তাঁকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঘটনার তদন্ত করছেন। কোনোও রকম অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই বড়সড় জালিয়াতির আশঙ্কা নিয়েই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং একটি বড় চক্রের জড়িত থাকার আলোচনা শুরু হয়েছে।