‘ওয়াহিদা বলতেন আমি বেঙ্গলের হিরো নই!’ কেন সবাই কাজ করতে চাইতেন তাঁর সঙ্গে? জন্মদিনে রহস্য ফাঁস করলেন বিশ্বজিৎ

আজ প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ৯০তম জন্মদিন। বয়সকে কেবলই সংখ্যা প্রমাণ করে এই কিংবদন্তি অভিনেতা এখনও সমানভাবে সক্রিয়। বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে ২৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় এবং পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে ইটিভি ভারতের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি ডুব দিলেন তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারের স্মৃতিতে।

প্রথম নায়িকা এবং হিন্দি অভিষেক: বিশ্বজিতের জীবনের প্রথম ছবি ছিল ‘ডাকহরকরা’, যেখানে তাঁর কোনো নায়িকা ছিলেন না। তবে পৌরাণিক ছবি ‘কংস’-এ কৃষ্ণের ভূমিকায় তাঁর বিপরীতে রাধার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন গীতা দাস। তাই গীতাকেই তিনি সিনেমার প্রথম নায়িকা বলে স্বীকৃতি দেন। এরপর ‘মায়ামৃগ’-এ তাঁর জুটি হন সন্ধ্যা রায়। হিন্দিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় তাঁর প্রথম ছবি ‘বিশ সাল বাদ’-এর নায়িকা ছিলেন ওয়াহিদা রহমান।

রেখার ‘ভাং-এর লাড্ডু’ কাণ্ড: দীর্ঘ কেরিয়ারের মজার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি শোনালেন এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি। ‘মেহমান’ ছবির শুটিংয়ের সময় উদয়পুরে রেখার সঙ্গে কাজ করছিলেন তিনি। সেখানে রাজস্থানি পোশাকে একজন ব্যক্তি কাঁধে করে মিষ্টি নিয়ে আসেন। সেটি ছিল ভাং দিয়ে তৈরি লাড্ডু। “রেখার এত ভালো লেগেছিল যে দুটো খেয়ে নিয়েছিল,” হাসতে হাসতে বললেন বিশ্বজিৎ। লাঞ্চের পর লোকেশনে ফিরে তিনি দেখেন, রেখা হো হো করে হাসছে, কখনও গলা জড়িয়ে ধরছে, কখনও উলটে পড়ছে—যেন ঘোর নেশা হয়েছে! পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে শুটিং বাতিল করতে হয় এবং রেখার জন্য ডাক্তার ডাকতে হয়। হাসতে হাসতে রেখা রীতিমতো জলে ঝাঁপ দিতে যাচ্ছিল সেদিন।

বাংলায় সন্ধ্যার সঙ্গে সেরা জুটি: বাংলায় তাঁর সবচেয়ে ভালো কেমিস্ট্রি কার সঙ্গে ছিল, এই প্রশ্নে বিশ্বজিৎ অকপটে বলেন, “বাংলাতে আমার খুব ভালো কেমেস্ট্রি ছিল সন্ধ্যা রায়ের সঙ্গে।” তাঁর অধিকাংশ বাংলা ছবিই সন্ধ্যার সঙ্গে এবং বেশিরভাগই ছিল হিট। তিনি জানান, সন্ধ্যা রায়ের সঙ্গে অভিনয়ে তিনি খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। রোম্যান্টিক বা ইমোশনাল সিনে অভিনয় করতে গেলে ভিতর থেকে সেই অনুভূতি আসত, যা দর্শকের কাছে অভিনয় বলে মনে হত না।

মালা সিনহার সঙ্গে মুম্বইয়ের সাফল্য: হিন্দির ক্ষেত্রে মালা সিনহাকে নিজের সেরা জুটি বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, “মালা খুব শক্তিশালী অভিনেত্রী। এক অন্যকে বুঝতে পারতাম আমরা। দুজনে দুজনের চোখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারতাম কী রি-অ্যাক্ট করবে বিপরীতে থাকা মানুষটি। মালা খুব সহজ ও স্বচ্ছন্দভাবে অভিনয় করতেন।”

অভিনয় শিক্ষণীয় গুরুদের থেকে: সহ-অভিনেতা হিসাবে তাঁর সফল হওয়ার রহস্য ফাঁস করে বিশ্বজিৎ বলেন, “আমাদের গুরুরা (উত্তম কুমার, দিলীপ কুমার, ছবি বিশ্বাস) শিখিয়েছিলেন, সহ-অভিনেতা ভালো রি-অ্যাক্ট না করলে তোমার কাজও ভালো হবে না। আমি সেটা মাথায় রেখেই কাজ করেছি।”

জন্মদিনে বিশ্বজিৎ স্মরণ করলেন, ওয়াহিদা রহমান তাঁর খুব সুখ্যাতি করতেন। তিনি নাকি বলেছিলেন, “আমাকে নাকি মনেই হয় না আমি বেঙ্গলের হিরো। আমার হাঁটাচলা, তাকানো, হিন্দি উচ্চারণ, সব নাকি পারফেক্ট।” তিনি জানান, তিনি নতুন সহ-অভিনেতাদের জড়তা কাটিয়ে তাঁদের নিজের মতো করে তৈরি করে নিতেন, যাতে সিনটা ভালো হয়।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01