“মেসিকে ভারতে এনে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি!”, ইডি তদন্তের দাবি তুললেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং

কলকাতা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির ট্যুর ঘিরে যে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এবার এই ঘটনায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং (Arjun Singh)। তিনি এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

অর্জুন সিংয়ের অভিযোগের মূল বিষয়:

অর্জুন সিং বলেন, স্টেডিয়াম প্রতীকী মূল্যে বুক করা নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। তবে দুটি বিষয়ে সাধারণ মানুষের আপত্তি ছিল এবং এটাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মূল কারণ: ১. জলের বোতলে দুর্নীতি: “১০ টাকার জলের বোতল বিক্রি হয়েছে ১৫০-২০০ টাকায়।” এই নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল। ২. মেসিকে ‘চুরি’: “মেসিকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছে, তাতে আপত্তি রয়েছে।” অর্থাৎ, মন্ত্রী, নেতা ও পুলিশ আধিকারিকদের বলয়ের কারণে হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও দর্শকরা মেসিকে দেখতে পাননি।

অর্জুন সিং আরও দাবি করেন, “প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছে, যাঁদেরকে দেখা গিয়েছে মাঠে, তাঁদের দেখতে ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খাওয়া হয়েছে।” তাই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই ব্যবসার পিছনে কী চুক্তি হয়েছিল এবং কত লাভ-লোকসান হল, তার জন্য দ্রুত ইডি তদন্তের প্রয়োজন।

যুবভারতীর বিশৃঙ্খলা:

১৩ ডিসেম্বর সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসি প্রায় ২০ মিনিট মাঠে ছিলেন। এই সময় মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ প্রায় ৮০ জন লোক ও পুলিশের একটি বড় বলয় তাঁকে ঘিরে রাখে। ফলে টিকিট কাটা সাধারণ মানুষ মেসিকে দেখতে পাননি। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মেসিকে জড়িয়ে ধরে ছবি তোলাতে ব্যস্ত ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে দর্শকরা ‘বু’ করতে শুরু করেন।

যে মাঠে বোতল নিয়ে ঢোকার অনুমতি ছিল না, সেখানেই ১৫০ টাকায় জলের বোতল বিক্রি হয়। সেই বোতলই ক্ষুব্ধ দর্শকরা মাঠে ছুড়তে শুরু করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মেসিকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই জনতা রেলিং ও গেটের তালা ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়ে ভাঙচুর শুরু করে। গ্যালারির বাকেট সিট ভেঙে আগুন ধরানো হয় ভিআইপি চেয়ারগুলিতে। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। এই গোটা ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে মুখ পুড়েছে বাংলার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।