“মেসি মেস বাংলাকে আন্তর্জাতিক অপমানের মুখে ঠেলে দিল!”, যুবভারতীর বিশৃঙ্খলা নিয়ে মমতার বিরুদ্ধে সরব অমিত মালব্য

সল্টলেক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ঝড় উঠেছে। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেছেন, এই ঘটনা বাংলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে চূড়ান্ত লজ্জায় ফেলেছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই রাজ্যের ‘আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ’ হয়েছে।
রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বে টুইটার) বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন শেয়ার করে মালব্য লেখেন, “সন্দেশখালি থেকে মেসি মেস বাংলাকে আন্তর্জাতিক অপমানের মুখে ঠেলে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” তাঁর কথায়, কলকাতার গর্বের হওয়ার কথা যে অনুষ্ঠান নিয়ে, তা আজ প্রশাসনিক অবস্থা ভেঙে পড়ার পাঠ্যবই হয়ে উঠল। সল্টলেক স্টেডিয়ামে সরকারের অব্যবস্থাপনা গোটা বাংলাকেই ‘গ্লোবাল এমবারাসমেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরেছে। তিনি নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ফাঁপা ক্ষমা চেয়ে ‘ব্যবস্থাগত অযোগ্যতা’ আর ‘ব্যর্থ শাসন’ ঢেকে রাখা যায় না।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ:
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই ঘটনা নিয়ে সরব। তিনি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট তুলে ধরে বলেন, কলকাতাকে ‘গ্লোবাল লাফিংস্টক’ বানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীরা প্রকাশ্য অনুষ্ঠানকে বেছে নেওয়া কিছু মানুষের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে পরিণত করেন। বিপুল সরকারি ও বেসরকারি খরচ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়।
শুভেন্দু অধিকারী এই ‘ফিয়াস্কো’র দায় সম্পূর্ণভাবে ‘অদক্ষ প্রশাসন’ ও মন্ত্রীদের ওপর চাপিয়েছেন। এই ঘটনার জেরে তিনি রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের কাছে চিঠি লিখে স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁর দাবি, অনিয়ন্ত্রিত ভিআইপি উপস্থিতি, অযৌক্তিক বাধা এবং খামখেয়ালি নিষেধাজ্ঞার কারণে দর্শকরা ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনার পর পুলিশ অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন, যা রবিবার সকাল থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে।