বাস-ডাম্পার-মোটরসাইকেলের উপর উঠে গেল গাড়ি! হরিয়ানায় দুই জাতীয় সড়কে দুই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শতাধিক আক্রান্ত

ঘন কুয়াশার কারণে রবিবার ভোরে হরিয়ানায় দুটি পৃথক স্থানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ৫২ এবং ৩৫২ নম্বর জাতীয় সড়কে একের পর এক বাস, ট্রাক এবং গাড়ি একে অপরের ওপর উঠে গিয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়। গত কয়েক দিন ধরেই হরিয়ানায় শৈত্যপ্রবাহ এবং ঘন কুয়াশার দাপট চলছে, যার জেরেই এই বড় বিপর্যয়।

জাতীয় সড়ক ৫২-এ ধ্বংসলীলা:

রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ ৫২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর প্রথমে কৈথল রোডওয়েজের একটি বাস একটি ডাম্পার ট্রাককে ধাক্কা মারে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় একটি বাস এসে ওই বাস ও ডাম্পারে সজোরে ধাক্কা মারে। এরপর একটি গাড়ি এবং মোটরসাইকেলও ধাক্কা খেয়ে ওলটপালট হয়ে যায়।

ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি গাড়ি অন্য গাড়ির ওপর উঠে গিয়েছে এবং একটি এসইউভি গাড়ির সামনের অংশ ডাম্পারের নীচে ঢুকে গিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। যদিও কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবে মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

রেওয়ারিতে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা:

অন্যদিকে, রেওয়ারিতে ৩৫২ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপরেও বড় দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে দৃশ্যমানতা কম থাকায় তিন-চারটি বাসের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাঁধে। এই ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্রথম বাসটির সামনের অংশ পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে।

হরিয়ানায় গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে। ভারতীয় আবহাওয়া ভবন (IMD) দৃশ্যমানতা কম থাকার বিষয়ে সতর্কতা জারি করে গাড়ি চালানোর সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, শুধু রবিবার সকালেই নয়, একদিন আগেও নয়ডা এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় একডজন গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে গৌতম বুদ্ধ নগর ট্রাফিক পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়েগুলিতে গতির সীমা বেঁধে দিয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে হালকা গাড়ির জন্য ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার এবং ভারী গাড়ির জন্য ৬০ কিলোমিটার গতি বেঁধে দেওয়া হয়েছে।